Wednesday, July 1, 2026

কুড়িগ্রামে ১৪০ বছরের পুরোনো সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারী যান চলাচল বন্ধ


ছবিঃ পুরনো সেতুর পাটাতন ভেঙে ভারি যান চলাচল বন্ধ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতুর স্টিলের পাটাতনের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় সাময়িকভাবে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে সোনাহাট স্থলবন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সেতুর দুই পাশে আটকা পড়েছে অসংখ্য মালবাহী ট্রাক।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে বালুবাহী একটি ড্রাম ট্রাক সেতু অতিক্রম করার সময় স্টিলের পাটাতনের একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে ট্রাকটি সেতুর মাঝামাঝি স্থানে আটকে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটির বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একাধিক স্থানে স্টিলের পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও কোথাও লোহার প্লেটও খুলে গেছে। তবু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই এই সেতু ব্যবহার করছে।

ঐতিহাসিক এই সেতুর নির্মাণ ব্রিটিশ আমলে। ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে এর একটি অংশ ধ্বংস করা হয়। পরে স্বাধীনতার পর সংস্কারের মাধ্যমে এটিকে সড়ক যোগাযোগের উপযোগী করা হয়, যার মাধ্যমে ভূরুঙ্গামারীর দক্ষিণাঞ্চল, কচাকাটা ও মাদারগঞ্জ এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়।

প্রকৌশলগতভাবে সেতুটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ছিল ১০০ বছর। সেই সময়সীমা বহু আগেই অতিক্রম করেছে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, জরাজীর্ণ এই সেতুর ওপর নির্ভর করে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর পরিচালনা করা এখন বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে সোনাহাট সেতুর পাশেই দুধকুমার নদের ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। এতে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

সেতু সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও নুর ইসলাম বলেন, ভারী পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচলের সময় পুরো সেতু কেঁপে ওঠে। সেতুটি এতটাই সংকীর্ণ যে একসঙ্গে দুটি বড় যানবাহনের চলাচল সম্ভব হয় না। ফলে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, প্রায়ই সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকলে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়বে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মালবোঝাই যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করা হবে। সংস্কার শেষ হলে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সেতুটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর স্থায়ী বিকল্প হিসেবে নতুন সেতুর নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বারবার অস্থায়ী মেরামতের পরিবর্তে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা হোক। তাদের মতে, এটি শুধু এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্যই নয়, সোনাহাট স্থলবন্দরের বাণিজ্য সচল রাখা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির স্বার্থেও অত্যন্ত জরুরি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন