- ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৩ জন প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৩৯টি জেলার তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জেলায় এসব শোকজ জারি করা হয়েছে।
শোকজ প্রাপ্তদের মধ্যে বিএনপির ৩৫ জন, জামায়াতে ইসলামী ১৮ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪ জন এবং ইসলামী আন্দোলন ৩ জন রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুজন করে, গণ অধিকার পরিষদ, খেলাফতে মজলিস, এবি পার্টি ও লেবার পার্টির একজন করে এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও শোকজ পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে সচেতন করার মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। মাদারীপুরে তিন প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা, পঞ্চগড়-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী কর্মীকে ১ হাজার টাকা, লালমনিরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ২০ হাজার টাকা এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ফেনীর তিনটি আসনে ১২ প্রার্থী ও নেতাদের মোট ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা যাবে না। এ বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড আরোপের বিধান রয়েছে। দলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করা সম্ভব। এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মানা না হলে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সততা বিপন্ন হতে পারে। সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হচ্ছে কি না তা প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পরই দেখা যাবে। নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সততা গুরুত্বপূর্ণ। সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
এদিকে, কয়েকজন প্রার্থী শোকজের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তারা আইন মেনে চলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলবশত আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে তা শিগগির সংশোধন করা হবে।
এই ঘটনাগুলো নির্বাচনের আগে আচরণবিধি প্রতিপালনের গুরুত্ব আবারও浮রে নিয়ে এসেছে, যাতে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।