Tuesday, January 20, 2026

জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’-এর রূপরেখা তুলে ধরল জামায়াত


ছবিঃ জামায়াত আয়োজিত পলিসি সামিট-২০২৬–এ রূপরেখা উপস্থাপন করেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের জন্য নীতিগত ও ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত পলিসি সামিট-২০২৬-এ এই রূপরেখা উপস্থাপন করেন দলের আমির শফিকুর রহমান। সম্মেলনে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের ১৮ কোটির বেশি মানুষের জন্য শাসনব্যবস্থার নতুন দিশা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। শিক্ষিত তরুণরা তাদের শিক্ষা অনুযায়ী কাজ খুঁজে পাচ্ছে না, নারীরা এখনও কাঠামোগত বাধার মুখে, আর প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও সাধারণ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সফলতার একমাত্র মানদণ্ড হতে পারবে না। এটি এমন হতে হবে, যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিকল্পনা করতে পারে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করতে পারে এবং সমাজে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে।”

তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকেও গুরুত্ব দেন। শফিকুর রহমান বলেন, “লাখো প্রবাসী শ্রমিক দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। এছাড়া, বিদেশে কর্মরত শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তারা দেশে নতুন প্রজন্মকে পরামর্শ ও সংস্কারে সহায়তা করতে পারেন।”

জামায়াত আমির অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কর্মসংস্থানকে শুধুমাত্র বিনিয়োগের পার্শ্বফল হিসেবে নয়, রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং ধীরে ধীরে অনানুষ্ঠানিক শ্রমকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি।”

নারীর অংশগ্রহণ বিষয়ে তিনি বলেন, “নারীর পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তি শুধু ন্যায়পরায়ণতার বিষয় নয়, এটি দেশের টেকসই সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।”

সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ওপর। শফিকুর রহমান সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের গুরুত্বে জোর দেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও পাকিস্তানসহ মোট ৩০ দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন