Tuesday, January 20, 2026

জাতীয় নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কঠিন পরীক্ষা: মির্জা ফখরুল


ফাইল ছবিঃ মির্জা ফখরুল (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য একটি ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হবে বাংলাদেশ উদার গণতন্ত্রের পথে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির দখলে চলে যাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে দেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন হলে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করবে। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি গণতান্ত্রিক অবস্থানে পৌঁছাতে চাই, যেখানে জনগণের সমস্যার সমাধান করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা যাবে।”

রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান আলোচ্য সংস্কারের অনেক বিষয়ই বিএনপি আগেই উত্থাপন করেছিল। ২০১৬ সালে খালেদা জিয়ার ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া ৩২ দফার মধ্যেই এসব সংস্কারের রূপরেখা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কিছু রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই বিএনপি অনেক আপস করেছে। তবে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ধর্ম ও রাজনীতির প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা অতীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব মেনে নেয়নি, তারাই এখন ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মে বিশ্বাসী দল এবং সংবিধানে আল্লাহর প্রতি আস্থার বিষয়টি যুক্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যারা বাধা দেওয়ার কথা বলছে, বাস্তবে তাদের জনসমর্থন নেই। “নির্বাচন হোক, তখনই বোঝা যাবে জনগণ কাকে গ্রহণ করে,”—বলেন তিনি।

শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষকে অবশ্যই উদারপন্থী ও গণতান্ত্রিক পথ বেছে নিতে হবে। এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে—মানুষের কল্যাণ ও গণতন্ত্রের পথে, নাকি উগ্রবাদী শক্তির দিকে।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন