- ২০ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সুখী, সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা দলটির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারবেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শ্রমজীবী মানুষ যাতে দুবেলা খাবার পায়, সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারে এবং নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে পারে এমন রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যাশা তাঁর।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। গণমাধ্যমকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাজনৈতিক জীবনের অনেক কিছুই মিস করবেন এ কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। তিনি সবার সুস্থতা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে দেশের কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথাও আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়ার সান্নিধ্য ও স্নেহ পাওয়ার স্মৃতি তাঁর মনে গভীরভাবে রয়েছে এবং এ দিনে তাঁকে বারবার মনে পড়ছে।
ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খালেদা জিয়ার সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হয়েছে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন এ নির্বাচন পরিচালনা করছেন। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় দেখা গেছে। নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করেছেন।
বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভাতেও অংশ নেন মির্জা ফখরুল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দিতে হবে বলে ওই সভাই তাঁর সংসদীয় দলের শেষ অংশগ্রহণ হয়ে থাকবে।