- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত হামলা এবং পরবর্তী মৃত্যুর ঘটনা দেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতার প্রমাণ। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের নেপথ্যের শক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত কাইয়ূম ও মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যেভাবে অস্থিরতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তাঁদের ভাষায়, পরাজিত ও পলাতক গোষ্ঠী, দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল এবং তাদের সহযোগীরা সম্মিলিতভাবে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
নেতারা অভিযোগ করেন, এসব শক্তি পরিকল্পিতভাবে দেশে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার উদ্যোগকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে একটি অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থানের পথ তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে পত্রিকা অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কূটনীতিকদের আবাসস্থলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রখ্যাত সাংবাদিক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম কণ্ঠ নূরুল কবীরকে নাজেহাল করার ঘটনাও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের নেতারা দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে জনগণকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, খুনি, সন্ত্রাসী ও দেশবিরোধী শক্তির উসকানিতে পা না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।