- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের পথে অবৈধ অস্ত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, গুজব ছড়ানো, সীমান্ত নিরাপত্তার দুর্বলতা এবং চিহ্নিত অপরাধীদের জামিন—এসব বিষয়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মাঠ প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও ব্রিফিং সভায় এসব উদ্বেগ ও আশঙ্কার কথা উঠে আসে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় কর্মকর্তারা বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দেন।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চার নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই মতবিনিময় সভায় আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের আটজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক ও জেলা কর্মকর্তাসহ মোট ২২৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিপুলসংখ্যক অস্ত্র লুট হওয়ার ঘটনা নির্বাচনী নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলেছে। যদিও এর একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, তবুও এখনও বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র বাইরে রয়ে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়ানোর বিষয়টিকে এবারের নির্বাচনে বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, জামিনে থাকা অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, কারাগারে থাকা অপরাধীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ এবং যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদারের পরামর্শ দেন তাঁরা।
ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সভায়। অপরাধীদের সহজে জামিন পাওয়া এবং রাজনৈতিক তদবির পুলিশের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে—এমন মন্তব্য করেন একাধিক কর্মকর্তা।
সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পুলিশ বাহিনী কাজ করেছে। তবে নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ এখন আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে কঠোর পদক্ষেপে সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
মতবিনিময়ের শেষ পর্যায়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।