- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
হলিউডে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করা অনেকেই বড় ধরনের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন—এমন বাস্তবতার মাঝেই নিজের ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জুডি ফস্টার। তিনি জানিয়েছেন, অল্প বয়সেই খ্যাতি ও স্বীকৃতি পাওয়ার কারণে তিনি একধরনের সুরক্ষা পেয়েছিলেন, যা তাঁকে গুরুতর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘ফ্রেশ এয়ার’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুডি ফস্টার বলেন, ছোট বয়সে হলিউডে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে অনেক বিষয় নতুন করে উপলব্ধি করতে হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, পেশাগত জীবনে সূক্ষ্ম বৈষম্য ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি হয়েছেন। তবে প্রশ্ন ছিল—কেন তিনি অন্য অনেক শিশুশিল্পীর মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হননি?
ফস্টারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খুব অল্প বয়সেই তিনি এমন এক অবস্থানে পৌঁছান, যেখানে তাঁর হাতে একধরনের ক্ষমতা চলে আসে। মাত্র ১২ বছর বয়সে মার্টিন স্করসেসি পরিচালিত ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য অস্কার মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব বেড়ে যায়। তাঁর ভাষায়, তখন তিনি এমন একজন হয়ে ওঠেন, যাঁকে নিয়ে মানুষ সতর্ক থাকত। কারণ, তিনি চাইলে অন্যায়ের কথা প্রকাশ করতে পারতেন কিংবা কারও ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারতেন।
১৯৬৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে অভিনয়জগতে পা রাখেন জুডি ফস্টার। মায়ের তত্ত্বাবধানে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরে ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’-এ কিশোরী এক বিতর্কিত চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান। এরপর ‘ফ্রিকি ফ্রাইডে’ ও ‘বাগসি মালোন’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে কিশোর বয়সেই নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারে জুডি ফস্টার আরও বলেন, তাঁর ব্যক্তিত্বও হয়তো তাঁকে অনেক ঝুঁকি থেকে দূরে রেখেছে। নিজেকে তিনি স্পষ্টভাষী ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, শোষণকারীরা সাধারণত দুর্বল, অনভিজ্ঞ ও ক্ষমতাহীনদের সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেয়—যেখানে তাঁর পরিস্থিতি ছিল আলাদা।
অভিনয়জীবনই তাঁকে মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শিখিয়েছে বলে মনে করেন ফস্টার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গুণগুলো তাঁকে আরও শক্ত করে তুলেছে।
শিশুশিল্পী হিসেবে শুরু করে পরবর্তী সময়ে হলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন জুডি ফস্টার। ‘দ্য অ্যাকিউজড’ ও ‘দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য দুটি অস্কার জয় তাঁর দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।