- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘নেডস ডিক্লাসিফায়েড স্কুল সারভাইভাল গাইড’-এ মার্টিন কুয়ারলি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন টাইলর চেজ। শিশুশিল্পী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অভিনয়জগতের আড়ালে চলে যান। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আলোচনায় এসেছেন টাইলর চেজ—তবে এবার তাঁর অভিনয় নয়, বরং গৃহহীন জীবন ঘিরে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড এলাকায় রাস্তায় বসবাসরত অবস্থায় তাঁকে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে তাঁকে জীর্ণ পোশাকে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেলে ভক্তদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে পরে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে রিভারসাইড পুলিশ বিভাগ।
‘নেডস ডিক্লাসিফায়েড’-এর সাফল্যের পর আরও কয়েকটি টিভি সিরিজে অভিনয় করেছিলেন টাইলর চেজ। তবে ধীরে ধীরে হলিউডে তাঁর উপস্থিতি কমে যায়। ২০১৫ সালে তিনি প্রকাশ্যে জানান, তিনি বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (বিপিডি) নামের মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এরপর দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে তাঁকে আর দেখা যায়নি।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার তাঁকে রাস্তায় দেখা যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। সাম্প্রতিক আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেই বলেন—তিনি সেই জনপ্রিয় সিরিজের সাবেক শিশুশিল্পী।
রিভারসাইড পুলিশের মুখপাত্র রায়ান রেইলসব্যাক জানান, টাইলর চেজ কত দিন ধরে গৃহহীন অবস্থায় আছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নেয় এবং জানায়, চেজ সাধারণত শান্ত ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বিভাগ একাধিকবার তাঁকে আশ্রয়কেন্দ্র ও চিকিৎসাসেবার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু চেজ তা গ্রহণ করতে রাজি হননি। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো নিয়ে টাইলর চেজ খুব বেশি বিচলিত নন বলে জানিয়েছে বিনোদনবিষয়ক একাধিক সূত্র। তাঁর পরিস্থিতি দেখে অনেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে ‘গো ফান্ড মি’ প্ল্যাটফর্মে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন।
তবে চেজের মা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের মূল সমস্যা অর্থের অভাব নয়, বরং চিকিৎসার প্রয়োজন। তিনি বলেন, “টাইলরের সবচেয়ে বেশি দরকার সঠিক চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা। শুধু টাকা দিলেই তার সমস্যার সমাধান হবে না। সে নিজের ওষুধ বা অর্থ ব্যবস্থাপনা একা সামলাতে পারে না।”