- ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। সিলেট
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগজুড়ে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নগরী থেকে শুরু করে আশপাশের উপজেলা—প্রায় সর্বত্রই ভোটারদের মধ্যে অংশগ্রহণের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ভোটার বলছেন, আগের কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পরিবেশ না থাকলেও এবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবেন বলে তারা আশাবাদী।
সিলেট শহরের জেলখানা মোড় এলাকার ব্যবসায়ী সেলিনা আক্তার বলেন, কে জিতবে সেটা বড় কথা নয়, নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে ভোট দেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, জীবিকার দায় নিজেদেরই বহন করতে হয়, তবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা কাজে লাগানো উচিত। একই রকম মনোভাব দেখা গেছে তরুণ ভোটারদের মধ্যেও। লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুবর্ণা দেব জানান, এবারই প্রথম ভোট দেবেন—এ অনুভূতি তাঁর কাছে আনন্দের।
সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট ১৯টি সংসদীয় আসন রয়েছে। স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বেশির ভাগ আসনেই মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। তবে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও একাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি দলটির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিলেট জেলার কয়েকটি আসনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। কোথাও প্রবাসী প্রার্থীকে মেনে নিতে অনীহা, কোথাও আবার কাঙ্ক্ষিত আসনে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নামায় দলের ঐক্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যদিও দলীয় নেতারা প্রকাশ্যে ঐক্যের কথা বলছেন, বাস্তবে সব কর্মী-সমর্থক কতটা সক্রিয় থাকবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও জোট রাজনীতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। অতীতে সিলেট বিভাগে দলটির উল্লেখযোগ্য সাফল্য না থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা শক্তি সঞ্চয় করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে জোটের কারণে একাধিক সম্ভাবনাময় আসনে দলীয় প্রার্থী না থাকায় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা আছে। তাদের দাবি, কিছু আসনে এককভাবে নির্বাচন করলে ফল ভিন্ন হতে পারত।
বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট বিভাগের ভোটের ফল অনেকটাই নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভেদ কতটা সামাল দেওয়া যায় এবং জোটের প্রার্থীরা কতটা কার্যকরভাবে মাঠের কর্মী-সমর্থকদের একত্র করতে পারেন, তার ওপর। যদিও অধিকাংশ ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কোন প্রতীকে ভোট পড়বে—তা প্রচারণার শেষ ধাপে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।