- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ক্লাউডের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাস্তব জগতে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রোবটিক্সে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়া। সিইএস ২০২৬-এ প্রতিষ্ঠানটি একগুচ্ছ নতুন রোবট ফাউন্ডেশন মডেল, সিমুলেশন টুল এবং এজ হার্ডওয়্যার উন্মোচন করেছে, যা এনভিডিয়াকে ভবিষ্যতের সাধারণ উদ্দেশ্যের রোবটিক্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এনভিডিয়ার এই উদ্যোগকে অনেকেই স্মার্টফোনে অ্যান্ড্রয়েডের উত্থানের সঙ্গে তুলনা করছেন। কোম্পানির লক্ষ্য—রোবটিক্স ডেভেলপমেন্টের জন্য এমন একটি মানক হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যার ওপর ভর করে ভবিষ্যতের রোবট নির্মিত হবে।
সোমবার এনভিডিয়া তাদের ‘ফুল-স্ট্যাক ফিজিক্যাল এআই’ প্ল্যাটফর্মের বিস্তারিত তুলে ধরে। এতে রয়েছে একাধিক নতুন ওপেন ফাউন্ডেশন মডেল, যেগুলো রোবটকে বিভিন্ন পরিবেশে যুক্তি করতে, পরিকল্পনা নিতে এবং নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম করবে। এসব মডেল ইতোমধ্যে হাগিং ফেস প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
নতুন মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কসমস ট্রান্সফার ২.৫’ ও ‘কসমস প্রেডিক্ট ২.৫’, যা সিনথেটিক ডেটা তৈরি এবং সিমুলেশনে রোবটের আচরণ যাচাইয়ে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ‘কসমস রিজন ২’ নামে একটি ভিশন-ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল আনা হয়েছে, যা এআইকে বাস্তব দুনিয়া দেখার, বোঝার ও সে অনুযায়ী কাজ করার সক্ষমতা দেয়। মানবাকৃতির রোবটের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘আইজ্যাক GR00T N1.6’ মডেলটি পুরো শরীরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব করবে, যাতে রোবট একসঙ্গে চলাফেরা ও বস্তু ধরার কাজ করতে পারে।
রোবট প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা আরও নিরাপদ ও সহজ করতে এনভিডিয়া উন্মুক্ত করেছে ‘আইজ্যাক ল্যাব-অ্যারিনা’ নামের একটি ওপেন সোর্স সিমুলেশন ফ্রেমওয়ার্ক। এটি গিটহাবে হোস্ট করা হয়েছে এবং বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা ছাড়াই জটিল রোবটিক দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ দেবে। এতে বিভিন্ন মানক বেঞ্চমার্ক ও প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম এক জায়গায় আনা হয়েছে, যা আগে শিল্পখাতে একীভূতভাবে ছিল না।
এই পুরো ইকোসিস্টেমকে যুক্ত করতে রয়েছে ‘এনভিডিয়া ওসমো’, একটি ওপেন সোর্স কমান্ড সেন্টার, যা ডেটা তৈরি থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ ও ডিপ্লয়মেন্ট পর্যন্ত পুরো কর্মপ্রবাহ পরিচালনা করতে সাহায্য করবে।
হার্ডওয়্যার দিক থেকেও বড় ঘোষণা এসেছে। এনভিডিয়া উন্মোচন করেছে ব্ল্যাকওয়েল আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘জেটসন T4000’ গ্রাফিক্স কার্ড, যা ১২০০ টেরাফ্লপস এআই কম্পিউটিং ক্ষমতা ও ৬৪ গিগাবাইট মেমোরি দেবে। কম বিদ্যুৎ খরচে উচ্চ ক্ষমতার এই চিপকে রোবটের অন-ডিভাইস কম্পিউটিংয়ের জন্য সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে তুলে ধরছে কোম্পানিটি।
এছাড়া হাগিং ফেসের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করেছে এনভিডিয়া। এর ফলে ব্যয়বহুল হার্ডওয়্যার ছাড়াই রোবট প্রশিক্ষণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবেন আরও বেশি ডেভেলপার। হাগিং ফেসের ‘LeRobot’ ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে এনভিডিয়ার আইজ্যাক ও GR00T প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় দুই প্ল্যাটফর্মের মিলিত ডেভেলপার কমিউনিটি আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রোবটিক্সকে সহজলভ্য করার এই কৌশলের মাধ্যমে এনভিডিয়া নিজেকে ভবিষ্যতের রোবট শিল্পের মূল ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছে। ইতোমধ্যে হাগিং ফেসে রোবটিক্স ক্যাটাগরি সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাতে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে এনভিডিয়ার মডেলগুলো শীর্ষে রয়েছে। পাশাপাশি বোস্টন ডাইনামিক্স, ক্যাটারপিলারসহ একাধিক বড় রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, ফিজিক্যাল এআই ও রোবটিক্সের ভবিষ্যৎ দখলে নিতে এনভিডিয়া যে বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, তারই স্পষ্ট বার্তা মিলেছে সিইএস ২০২৬-এর মঞ্চ থেকে।