Monday, October 26, 2026

শিবপুরে ঘুমন্ত বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে


ছবিঃ নরসিংদীতে ছেলের হাতে বাবা খুন, আহত মা-ভাই (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। নরসিংদীর 

নরসিংদীর শিবপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘুমন্ত বাবাকে ছুরিকাঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলের বিরুদ্ধে। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্ত্রী ও অপর ছেলে আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল বাছেদ মিয়া (৬৫) ওই গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি ভ্রাম্যমাণ ওষুধ বিক্রি করতেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী (৩৫) তার বড় ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল বাছেদ মিয়া ও তার ছেলে শাকিল একই ঘরে ঘুমাতে যান। রাতের প্রথমভাগে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের বিরোধের ঘটনা ঘটেনি। তবে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই ঘর থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের অন্য সদস্যরা।

পরে তারা ঘরে গিয়ে আব্দুল বাছেদ মিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের অভিযোগ, ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর ধারালো অস্ত্র ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নিহতের স্ত্রী সখিনা বেগম ও অপর ছেলে নুরুন্নবী রাশেদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তারাও আহত হন।

খবর পেয়ে শিবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল বাছেদ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের মেয়ে হাফসা বেগম বলেন, ‘আমরা তার মৃত্যুদণ্ড চাই। আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। অভিযুক্ত আমাদের সবাইকে মারতে চায়। আমরা ভয়ের মধ্যে আছি।’

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনুর মিয়া বলেন, ছেলের হাতে বাবা হত্যার শিকার হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, শাকিল চৌধুরীর বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন