- ১২ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে উভয় পক্ষের হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের প্রশাসন জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর গোলাবর্ষণে সুজেমকা এলাকায় দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে একটি ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকটি শিল্প স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে আঞ্চলিক প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের তলিয়াত্তি শহরেও রাতের আঁধারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শহরটি দেশটির বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। হামলার পর স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় এক নারী রেলকর্মী নিহত হয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে তিনি প্রাণ হারান। একই ঘটনায় আরেক নারী কর্মী আহত হন। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের মাইকোলাইভ অঞ্চলে পৃথক হামলায় তিনজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন অগ্রগতির দাবি করেছে মস্কো। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দোনেৎস্ক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বসতি তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যদিও এ বিষয়ে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো, তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় পড়তে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিমিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি পেট্রোল স্টেশনে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও রাশিয়ার কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ জ্বালানি সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘর্ষের পাশাপাশি উভয় পক্ষ এখন প্রতিপক্ষের সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো দুর্বল করার কৌশল গ্রহণ করছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও পড়তে শুরু করেছে।