Tuesday, July 7, 2026

সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের


ছবিঃ এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে আয়োজিত সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে দলীয় সমাবেশ চলাকালে দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা না গেলেও অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার সময় সমাবেশের মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম উপস্থিত ছিলেন। তখন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অভিযোগ, বিস্ফোরণের আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরপরই কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে, যা পরিকল্পিত হামলার অংশ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে রয়েছেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী, শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপারসন মো. মজনু এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাঈদুল ইসলাম। আহতদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঞ্চের সামনে সংবাদকর্মীদের জন্য নির্ধারিত স্থান ছিল। এর পেছনে সাধারণ মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়। বক্তব্য চলাকালে সেই অংশে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।

এর আগে গাজীপুরের কালীগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে কেন্দ্রীয় নেতারা সাভারে পৌঁছে পদযাত্রায় অংশ নেন। পদযাত্রা শেষে সমাবেশ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। এরপর দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি সমাবেশ চলাকালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং আলামত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন