- ০৭ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ফ্রান্সের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত নেতা এবং কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) দলের প্রধান মুখ মেরিন লে পেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিতে যাচ্ছে দেশটির আপিল আদালত। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তহবিল অপব্যবহারের মামলায় তার বিরুদ্ধে দেওয়া আগের রায় বহাল থাকবে কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে তিনি ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না।
মঙ্গলবার ঘোষিত হওয়ার কথা থাকা এই রায়কে ঘিরে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আদালত যদি আগের দণ্ড বহাল রাখে, তাহলে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লে পেনের অংশগ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
গত বছরের মার্চে প্যারিসের একটি আদালত রায় দিয়েছিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহকারী নিয়োগের জন্য বরাদ্দ অর্থ রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে। আদালতের মতে, ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৯ লাখ ইউরো অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছিল। একই মামলায় ন্যাশনাল র্যালি দলকেও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
সে সময় আদালত মেরিন লে পেনকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় গৃহবন্দি থাকার শাস্তিও দেওয়া হয়।
তবে শুরু থেকেই লে পেন ও তার দল সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বরাদ্দ অর্থ বৈধভাবেই ব্যয় করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে লে পেন বলেন, তিনি কেবল তখনই নির্বাচনে অংশ নেবেন, যখন স্বাধীনভাবে প্রচারণা চালানোর সুযোগ থাকবে। তার ভাষায়, কাগজে-কলমে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি পেলেও যদি কার্যকরভাবে প্রচারণা চালানো সম্ভব না হয়, তাহলে সেই অংশগ্রহণ অর্থহীন হয়ে যাবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল আদালতের সামনে মূলত তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত চাইলে আগের রায় সম্পূর্ণ বাতিল করতে পারে, সেক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খুলে যাবে। আবার আগের রায় বহাল রাখলে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে তিনি কার্যত ছিটকে যাবেন। তৃতীয় সম্ভাবনা হলো, আদালত দোষী সাব্যস্ত রাখলেও শাস্তি কমিয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লে পেন ফরাসি রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও তিনি সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। যদি আদালতের রায়ে তার প্রার্থিতা আটকে যায়, তাহলে ন্যাশনাল র্যালির তরুণ নেতা জর্ডান বারদেলা দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সামনে আসতে পারেন।
আপিল আদালতের রায় লে পেনের পক্ষে না গেলে তিনি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত কোর্ট অব ক্যাসেশন-এ যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সেই আদালত মূলত আইনের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করে; মামলার তথ্য-প্রমাণ নতুন করে বিচার করে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রায় শুধু একজন নেতার ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং ২০২৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং দেশটির কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।