- ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বলিউডে এমন কিছু নাম আছে, যাদের পরিচয় শুধু সিনেমার পর্দায় সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের জীবন, অভ্যাস, পছন্দ-অপছন্দ সবকিছুই ভক্তদের কৌতূহলের বিষয়। তেমনই একজন আবদুল রশিদ সেলিম সালমান খান। ১৯৬৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্ম নেওয়া এই তারকা আজ শুধু অভিনেতা নন, বরং এক পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতি।
চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের সন্তান হিসেবে সিনেমার আবহে বড় হলেও সালমানের পথচলা সহজ ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই তাঁকে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে। তবে ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ মুক্তির পর বদলে যায় সবকিছু। প্রেমিক ‘প্রেম’ চরিত্রটি তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয় এবং বলিউডে জন্ম নেয় এক নতুন তারকা ধারা।
অনেকে জানেন না, অভিনয়ের আগে সালমান ছিলেন দুর্দান্ত ক্রীড়াবিদ। স্কুলজীবনে সাঁতারে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া এই অভিনেতা ভারতের প্রতিনিধিত্বও করেছেন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। চাইলে তিনি খেলাধুলাতেই গড়তে পারতেন ক্যারিয়ার, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাঁকে নিয়ে আসে ক্যামেরার সামনে।
সালমান খানের হাতে থাকা ফিরোজা পাথরের ব্রেসলেট এখন তাঁর পরিচয়ের অংশ। বিশ্বাস করা হয়, এটি তাঁর জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক। বিলাসী ব্র্যান্ডের দূত হলেও নিজের বাড়িতে খালি পায়ে হাঁটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। এই সাধারণ অভ্যাসই তাঁকে ভক্তদের কাছে আরও মানবিক করে তোলে।
বলিউডের আলোচিত সিনেমা ‘বাজিগর’-এর প্রস্তাব একসময় সালমানের কাছেই গিয়েছিল। নেতিবাচক চরিত্রের কারণে তিনি তা ফিরিয়ে দেন। পরে ছবিটি শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, বলিউডে একটি সিদ্ধান্ত কীভাবে ইতিহাস গড়ে দেয়।
খাবারের ব্যাপারে সালমান ভীষণ স্পষ্টবাদী। ভারতীয় খাবারের প্রতি দুর্বলতা এতটাই যে, বিদেশে শুটিং চলাকালে নিজের বাবুর্চিকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন। একই সঙ্গে গাড়ির প্রতি রয়েছে তাঁর গভীর অনুরাগ। বিলাসবহুল ও দুর্লভ গাড়ির সংগ্রহ তাঁর গ্যারেজকে বানিয়েছে আলাদা আকর্ষণ।
চকচকে জীবনের আড়ালে সালমান খান এক নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’ দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে কাজ করছে। নীরবে সাহায্য করা, নিয়মিত রক্তদান এসবই তাঁর জীবনের অংশ।
অভিনয়ের পাশাপাশি সালমান নিজ কণ্ঠে গান গেয়েছেন কয়েকটি ছবিতে। ‘হ্যালো ব্রাদার’ কিংবা ‘বডিগার্ড’-এর গানে তাঁর কণ্ঠ আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। খুব বেশি নয়, কিন্তু ভক্তদের কাছে এই দিকটিও কম আকর্ষণীয় নয়।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তাঁকে বারবার ঘিরেছে। তবু আশ্চর্যজনকভাবে দর্শকের ভালোবাসা কখনো কমেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও দৃঢ় হয়েছে। কারণ, অনেকের কাছে সালমান শুধু সুপারস্টার নন তিনি একজন চেনা মানুষ, যাঁর মধ্যে আছে দুর্বলতা, সাহস আর মানবিকতা।
এক শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করা সালমান খান আজও বলিউডের সবচেয়ে প্রভাবশালী নামগুলোর একটি। জন্মদিন এলেই তাই শুধু কেক কাটার উৎসব নয় ভক্তদের ভালোবাসায় আবারও প্রমাণ হয়, কেন তিনি এত বছর ধরেই আলোচনার শীর্ষে।