- ০১ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কোডিং, গবেষণা ও লেখালেখিসহ নানা ধরনের জটিল কাজের জন্য নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘জেমিনি ৪ আর্গন’ উন্মোচন করেছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। তবে নতুন এই মডেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা হিসেবে সাইবার নিরাপত্তাকে সামনে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গুগলের নিরাপত্তা উদ্যোগ ‘ফেয়ারউইন্ড প্রোগ্রাম’-এর আওতায় আপাতত নির্বাচিত কয়েকটি সাইবার নিরাপত্তা অংশীদারের কাছে আর্গন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মডেলটিকে বিশেষভাবে প্রতিরক্ষামূলক সাইবার নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সফটওয়্যারের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত, যাচাই এবং তা সংশোধন করতে সক্ষম।
গুগল জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা জটিল কাজের বিভিন্ন ধাপ বিশ্লেষণ করে যুক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা মাথায় রেখেই আর্গন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কর্মীরাও ইতোমধ্যে দৈনন্দিন কাজে মডেলটি ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে সফটওয়্যারের ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধন এবং বড় কোডভান্ডার এক কাঠামো থেকে অন্য কাঠামোয় স্থানান্তরের মতো কাজ রয়েছে।
শুধু কোডিং বা সফটওয়্যার প্রকৌশল নয়, বিভিন্ন ধরনের দৃশ্যমান তথ্য বিশ্লেষণেও আর্গনের সক্ষমতার কথা জানিয়েছে গুগল। দীর্ঘ ভিডিওর বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন চার্ট ও ভিজ্যুয়াল তথ্য বোঝার কাজও মডেলটি করতে পারে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
গুগলের ভাষ্য অনুযায়ী, জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপ্রবাহে গভীরভাবে যুক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা আর্গনকে তাদের কাজ ও সফটওয়্যার তৈরির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শক্তিশালী নতুন মডেল উন্মোচনের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। নিজেদের মডেলকে আগের সংস্করণ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তির তুলনায় এগিয়ে রাখতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়মিত নতুন সক্ষমতা যুক্ত করছে।
গুগলও তাদের ব্লগ পোস্টে দাবি করেছে, বিভিন্ন এআই বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় আর্গন ওপেনএআইয়ের ‘জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা’ এবং অ্যানথ্রপিকের ‘ফেবল’ ও ‘অপাস’ মডেলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি স্কোর করেছে। এ দাবির পক্ষে গুগল ‘ভ্যালস’ নামের একটি এআই বেঞ্চমার্কিং প্রতিষ্ঠানের সূচকের তথ্যও তুলে ধরেছে। ওই সূচকে বর্তমানে আর্গনকে শীর্ষস্থানীয় মডেল হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল।
একসময় এআই প্রতিযোগিতায় গুগলকে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে জেমিনি সিরিজের সাফল্যের মাধ্যমে সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। গত আগস্টে গুগল জানিয়েছিল, তাদের জেমিনি অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা একশ কোটি ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ওপেনএআইও সম্প্রতি জানিয়েছে, তাদের চ্যাটজিপিটির মাসিক ব্যবহারকারী একশ কোটিতে পৌঁছেছে। ফলে এআই বাজারে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবহারকারী, সক্ষমতা এবং উন্নত মডেল তৈরির প্রতিযোগিতা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
সাইবার নিরাপত্তায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানের সক্ষমতার কারণে জেমিনি ৪ আর্গনের নতুন ব্যবহারিক ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আপাতত মডেলটির ব্যবহার সীমিত পরিসরে গুগলের নির্বাচিত সাইবার নিরাপত্তা অংশীদারদের মধ্যেই রাখা হয়েছে।