- ০২ অক্টোবর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোডিং স্টার্টআপ ফ্যাক্টরির সঙ্গে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী ক্রিস ডেগনানের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ফ্যাক্টরির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাতান গ্রিনবার্গ অভিযোগ করেছেন, কোম্পানির বোর্ড উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ডেগনান তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কগনিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন তথ্য নিয়ে যোগাযোগ করেছেন।
অন্যদিকে ডেগনান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ফ্যাক্টরি থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়নি; বরং কগনিশনে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গ্রিনবার্গ জানান, ডেগনানকে ফ্যাক্টরির বোর্ড উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ডেগনান এক্স ও লিংকডইনে ঘোষণা দেন, তিনি কগনিশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিচ্ছেন।
ডেগনানের নতুন দায়িত্বের ঘোষণায় ফ্যাক্টরির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেখানে তিনি জানান, আরপিটি পার্টনার্স এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা অংশীদার চ্যাড পিটসও কগনিশনের সঙ্গে কাজ করবেন।
ডেগনান প্রযুক্তি ও ভেঞ্চার বিনিয়োগ জগতে পরিচিত নাম। তিনি স্নোফ্লেকের প্রথম বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং পরে প্রায় ১১ বছর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন। গত পাঁচ মাস ধরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আরপিটি পার্টনার্সের অংশীদার ছিলেন। একই সঙ্গে বড় ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান আইকনিকের স্টার্টআপগুলোর বাজার সম্প্রসারণসংক্রান্ত উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অন্যদিকে সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ফ্যাক্টরি একটি এআই কোডিং স্টার্টআপ, যার এজেন্টভিত্তিক প্রযুক্তি অনেক প্রোগ্রামিং কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। চলতি মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৫০০ কোটি ডলার মূল্যায়নে ২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। এ বিনিয়োগে কোশলা ভেঞ্চারস, ব্ল্যাকস্টোন, সিকোইয়া ক্যাপিটাল ও ইনসাইট পার্টনার্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ফ্যাক্টরির গ্রাহকদের মধ্যে এনভিডিয়া, ব্ল্যাকস্টোন, রয়্যাল ব্যাংক অব কানাডা, পালো আল্টো নেটওয়ার্কস, অ্যাডোবি ও টি-মোবাইল রয়েছে।
গ্রিনবার্গের ভাষ্য অনুযায়ী, কগনিশন যে প্রতিষ্ঠান ‘ডেভিন’ নামের এআই কোডিং এজেন্ট তৈরি করেছে ফ্যাক্টরির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। চলতি মাসেই কগনিশন ৪৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে আরও ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের তালিকায় মার্সিডিজ-বেঞ্জ, নাসা, গোল্ডম্যান স্যাকস ও সিটি রয়েছে।
গ্রিনবার্গ দাবি করেন, এর আগে ডেগনান কগনিশনের একজন নির্বাহীর সঙ্গে ‘অনানুষ্ঠানিক’ কথোপকথনের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে তখন তিনি ফ্যাক্টরির প্রধান নির্বাহীকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করার কোনো আগ্রহ তার নেই।
গ্রিনবার্গের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তিনি জানতে পারেন কগনিশনের সঙ্গে ডেগনানের আলোচনা চলছিল। তখন ফ্যাক্টরির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও পণ্যসংক্রান্ত তথ্য তার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি।
গ্রিনবার্গ আরও বলেন, ফ্যাক্টরির বোর্ড বৈঠকে অংশ নেওয়া এবং নেতৃত্বকে পরামর্শ দেওয়ার সময় ডেগনানের গোপনীয়তা রক্ষার বাধ্যবাধকতা ছিল। তিনি দাবি করেন, ডেগনানের সঙ্গে কগনিশনের যোগাযোগের বিষয়টি জানার পর তার আগের কিছু প্রশ্ন ও আচরণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে গ্রিনবার্গের এই বর্ণনার সঙ্গে একমত নন ডেগনান। তার দাবি, কগনিশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করার সময় তিনি ফ্যাক্টরির সর্বশেষ বোর্ড বৈঠক থেকে কয়েক সপ্তাহ দূরে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ফ্যাক্টরির কোনো গোপন তথ্য তিনি শেয়ার করেননি।
ডেগনানের ভাষ্য, কগনিশনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে গ্রিনবার্গকে পদত্যাগের কথা বলার পর ফ্যাক্টরির প্রধান নির্বাহী তাকে পূর্ণকালীন চাকরির প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।
বিষয়টি নিয়ে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জগতেরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। কোশলা ভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাতা বিনোদ কোশলা এক্সে গ্রিনবার্গের বক্তব্যের সমালোচনা করেন এবং ডেগনানকে বরখাস্ত করার বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে গ্রিনবার্গ বলেন, তার বক্তব্যের পক্ষে ই-মেইলসহ প্রমাণ রয়েছে, যদিও তিনি সেগুলো প্রকাশ করেননি।
কোশলা ভেঞ্চারসের অংশীদার কিথ রাবোইসও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় যদি কেউ বোর্ড বৈঠকে অংশ নেন এবং বোর্ড পর্যায়ের তথ্যের নাগাল রাখেন, তাহলে তা স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
কগনিশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্কট উও বিতর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি ফ্যাক্টরির প্রতি সম্মান প্রকাশ করে বলেন, তার প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টরির কোনো তথ্যের প্রতি আগ্রহী নয়। তবে ডেগনান সোমবার পদত্যাগ করেছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
এ ঘটনাকে ঘিরে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোর বোর্ড সদস্য হিসেবে কাজ করা এবং একই খাতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিতে বিনিয়োগ বা দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে একই বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বী একাধিক এআই কোম্পানিতে বিনিয়োগের ঘটনাও এখন আর বিরল নয়।
ফ্যাক্টরির প্রধান নির্বাহী গ্রিনবার্গের মতে, একটি স্টার্টআপের বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক আস্থা। তার দাবি, ডেগনানের আচরণ সেই আস্থার জায়গাটিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তবে ডেগনান তার বিরুদ্ধে আনা গোপন তথ্য শেয়ারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরীণ তথ্য কগনিশনের কাছে আদৌ গেছে কি না এবং দুই পক্ষের মধ্যে ডেগনানের পদত্যাগ বা অপসারণ নিয়ে প্রকৃত ঘটনা কী তা নিয়ে এখনো পরস্পরবিরোধী বক্তব্যই সামনে রয়েছে।