- ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
পবিত্র রমজান শুরু হতে এখনো প্রায় এক মাস বাকি থাকলেও এরই মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, চিনি, ডাল, ছোলা, আদা ও রসুনসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। আমদানি বাড়লেও চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে জটিলতার কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, রমজান সামনে রেখে এবার গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি পণ্য আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে খোলা ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে আসা পণ্য এখন দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। তবে বন্দরে দীর্ঘসূত্রতা থাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না।
চট্টগ্রামের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা গেছে, ছোলার কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। অ্যাংকর ডালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতি মণ চিনি ও পাম অয়েলের দাম পাইকারি পর্যায়ে প্রায় ১০০ টাকা করে বেড়েছে। আদা ও রসুনের দামও বাড়তির দিকে। এর প্রভাব রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সরকারি সংস্থা টিসিবির সাম্প্রতিক বাজারদর প্রতিবেদনে এ মূল্যবৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রমজান এলেই পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা নতুন নয়। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, “প্রতি বছরই ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়ান। বাজার তদারকি ও পাইকারি বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা গেলে রমজানে মূল্যচাপ কমানো কঠিন হবে।”
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)–এর সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, “রমজান শুরুর আগেই দাম বাড়া প্রমাণ করে বাজারে তদারকির ঘাটতি রয়েছে। সরকার পর্যাপ্ত আমদানির কথা বললেও এর সুফল এখনো ভোক্তারা পাচ্ছেন না।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে শতাধিক জাহাজে প্রায় ৪৫ লাখ টনের বেশি ভোগ্যপণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে গম, ভুট্টা, ডাল, ছোলা, ভোজ্য তেল ও চিনি রয়েছে। আমদানিকারকেরা বলছেন, লাইটার জাহাজ সংকট ও বন্দরের সক্ষমতা সমস্যার কারণে দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআর জানিয়েছে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে শুল্ক–কর যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবে এর প্রভাব বাজারে না পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে রমজানে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।