Monday, April 13, 2026

রহিত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে নতুন বিল আনার ইঙ্গিত সরকারের


ছবিঃ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান (বাঁয়ে)। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের সভাকক্ষে (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় গঠনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হলেও এসব বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে আইন আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। একইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন না হওয়া আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পুনর্বিবেচনা করে বিল আকারে আনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।

রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ। তারা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা বহু অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু আইনগত ও কাঠামোগত দুর্বলতা থাকায় সেগুলো সরাসরি অনুমোদনের পরিবর্তে নতুন করে পর্যালোচনা প্রয়োজন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হলেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে সেগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে এবং বাকি অধিকাংশ অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব অধ্যাদেশ নিয়ে বিতর্ক বা মতবিরোধ রয়েছে, সেগুলো আরও পরিমার্জন করে ভবিষ্যতে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বিশেষ করে গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন–সংক্রান্ত আইনগুলোতে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী জানান, কিছু অধ্যাদেশের ভাষা ও সংজ্ঞা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায় তা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগ–সংক্রান্ত আইনগুলোও নতুনভাবে সাজানো হতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধী দল এসব অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন না করায় সরকারের সমালোচনা করেছে এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ হিসেবে দেখেছে। এ নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বিতর্কের পর তারা ওয়াকআউটও করে।

সরকার অবশ্য দাবি করেছে, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্যেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিরোধী দলের অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয়। মন্ত্রীরা বলেন, আইন প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই সময় নিয়ে পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সরকার বলেছে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে ভারসাম্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই সুপ্রিম কোর্ট–সংক্রান্ত আইনগুলো নতুনভাবে প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রহিত হওয়া অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন