Saturday, October 3, 2026

রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগ ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের মধ্যে লাটভিয়ায় ভোট


ছবিঃ ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে লাটভিয়ার সাউলক্রাস্তিতে সাধারণ নির্বাচনের সময় একজন ব্যক্তি ভোট দিচ্ছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা /ইন্টস কালনিনস/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

রাশিয়ার সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার চাপের মধ্যে লাটভিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন শুরু হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় সকালে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পর দেশটির ১১তম পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন প্রায় ১৫ লাখ ভোটার।

এ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রিস কুলবার্গসের জন্যও প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা। চলতি বছরের মে মাসে পূর্বসূরির পদত্যাগের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। ইউক্রেন থেকে বিচ্যুত হয়ে আসা ড্রোনের একাধিক অনুপ্রবেশ নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই তাঁর পূর্বসূরিকে পদ ছাড়তে হয়েছিল।

শনিবার ভোটগ্রহণ শুরু হয় গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৫টায় এবং শেষ হওয়ার কথা বিকেল ৫টায়। নির্বাচনের ফল দেশটির ইউরোপপন্থি ও ইউক্রেনপন্থি পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না।

তবে সরকার গঠন নিয়ে জটিল সমীকরণ তৈরি হতে পারে। কুলবার্গসের ডানপন্থি দল ইউনাইটেড লিস্ট জনমত জরিপে প্রায় ২০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে আছে। কিন্তু বর্তমান জোট সরকারের দুই শরিক দলের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনে তাকে কঠিন দর-কষাকষির মুখে পড়তে হতে পারে।

লাটভিয়ার রাজনীতিতে দলগুলোর মধ্যে ভোটের ব্যবধান সাধারণত খুব বেশি নয়। কোনো একটি দল সচরাচর ২০ শতাংশের বেশি ভোট পায় না। ফলে নির্বাচনের পর জোট সরকার গঠন করাই সেখানে রাজনৈতিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবার নির্বাচনে ১৪টি রাজনৈতিক তালিকা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে জনমত জরিপ অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় সাতটি দল পার্লামেন্টে প্রবেশের প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারে।

নির্বাচনী প্রচারে লাটভিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তুলনামূলক কম মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং দীর্ঘদিনের জনসংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে লাটভিয়ার ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে নিরাপত্তা প্রশ্নটিও নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার পর লাটভিয়া প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে।

দেশটির অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইউক্রেনকে সমর্থন করে। তবে পপুলিস্ট দল ‘সার্বভৌম শক্তি’ বা সোভারেন পাওয়ার ইউক্রেনের বিজয় চাইলেও দেশটিকে সহায়তা দিতে ব্যয় করা অর্থের আরও বড় অংশ দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা উচিত বলে মনে করে।

দলটি জনমত জরিপে ৯ শতাংশের বেশি সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ দলই তাদের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনপন্থি ও পপুলিস্ট-জাতীয়তাবাদী দল লাটভিয়া ফার্স্ট প্রায় ৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে সম্ভাব্য জোটসঙ্গী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। ইউরোপপন্থি সামাজিক গণতান্ত্রিক দল দ্য প্রগ্রেসিভস-এর সমর্থন প্রায় ৬ শতাংশ।

লাটভিয়ার মোট নাগরিকের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জাতিগত রুশ। অতীতে এই জনগোষ্ঠীর ভোট অনেকাংশে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে হলেও এবার অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলো তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে লাটভিয়ার রাজনীতিতে জোট সরকারই স্বাভাবিক চিত্র। এবারের ভোটের পরও নতুন সরকার গঠনে একাধিক দলের সমঝোতা প্রয়োজন হতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন