- ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় উদ্বেগ ও সমালোচনা বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সংশোধিত তালিকায় দেখা গেছে, বাদ পড়াদের একটি বড় অংশকে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত বা মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বাকি কয়েক মিলিয়ন মানুষের ক্ষেত্রে তাদের নাম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে, যা নির্বাচন শুরুর আগেই নিষ্পত্তি হওয়া কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার গোবিন্দপুর গ্রামের ৭৩ বছর বয়সী নাবিজান মন্ডলের মতো অনেকেই হঠাৎ করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিয়ে এলেও এবার তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন। তার ক্ষেত্রে নামের বানান ও ভিন্ন নথিতে ভিন্ন নাম ব্যবহারের কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ তুলেছে যে, এটি পরিকল্পিতভাবে কিছু জনগোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নাম তুলনামূলক বেশি বাদ পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
যদিও ভারতের নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ভুয়া বা অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিয়ে প্রকৃত ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা।
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেছেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বলছে, তালিকা থেকে অযোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া প্রয়োজন এবং এতে কোনো বৈধ ভোটারের ক্ষতি হওয়ার কথা নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় নারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বিয়ের পর নাম পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তন কিংবা নথিপত্রের অসামঞ্জস্যতার কারণে অনেক নারী ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।