Tuesday, January 13, 2026

পাকিস্তান–তুরস্ক–সৌদি জোটে যুক্ত হতে পারে বাংলাদেশ


ছবিঃ পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের পতাকা (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ সম্ভাব্যভাবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে পারে—এমন জল্পনা ক্রমেই জোর পাচ্ছে। অনলাইন টাইমস অব ইসলামাবাদের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রক্রিয়া বা মেকানিজম গড়ে তুলেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে আগের সরকারের পতনের পর এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়। ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ এবং পাকিস্তান–সৌদি আরবের বিদ্যমান কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই আলোচনা আরও জোরদার করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

উল্লেখযোগ্য যে, এই সম্ভাব্য জোটের ভিত্তি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত পাকিস্তান–সৌদি আরব কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, এক দেশের ওপর যে কোনো আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। ইসরাইল–পূর্বমধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এই চুক্তির মূল প্রেক্ষাপট।

তুরস্কের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এই জোটকে ত্রিপাক্ষিক শক্তিশালী কাঠামোয় রূপ দিতে পারে। পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ নৌযান নির্মাণ, এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের আধুনিকায়ন এবং সৌদি–তুরস্কের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোটের সম্ভাব্য কার্যকারিতা বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশের সামরিক নেতৃত্বও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি কাঠামোর আদলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করতে ঢাকা–ইসলামাবাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, যৌথ প্রশিক্ষণ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ঢাকা সফর করেছেন, এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান পাকিস্তান সফর করেছেন জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর নতুন সরকারই চূড়ান্ত অনুমোদন দিবে। এর সঙ্গে বাংলাদেশের ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ আধুনিকায়ন কর্মসূচির লক্ষ্যও মিলে যাচ্ছে, যা বিদেশি অংশীদারদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ মহড়া নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

এ উদ্যোগের প্রভাব শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় এটি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষত, মুসলিম অধ্যুষিত দেশের মধ্যে এই ধরনের সম্প্রসারিত জোট নিরাপত্তা সমন্বয় ও অভিন্ন প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকার কোন পথে যাবে, সেটিই ভবিষ্যতের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন