- ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বলিউডে তারকাখ্যাতি এখন আর শুধু অভিনয়ের দক্ষতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ে গড়ে উঠছে তারকাদের আর্থিক সাম্রাজ্য। সম্প্রতি অভিনেতা-লেখক বিবেক ভাসওয়ানি এই বাস্তবতাকে সামনে এনে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
ভাসওয়ানির মতে, এ তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন শাহরুখ খান, যিনি নিজের ক্যারিয়ারকে একধরনের ‘বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি’তে রূপ দিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সুপরিকল্পিত বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছেন।
শাহরুখ খানের প্রতিষ্ঠিত রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট এখন বলিউডের অন্যতম বড় প্রযোজনা সংস্থা। শুধু সিনেমা নির্মাণ নয়, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস বা ভিএফএক্স প্রযুক্তিতেও প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে। এছাড়া তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর অন্যতম মালিক, যা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটি।
২০২৫ সালে একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করেন এই অভিনেতা—প্রথম ভারতীয় অভিনেতা হিসেবে বিলিয়নিয়ারের তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ, যা প্রমাণ করে অভিনয়ের বাইরেও বহুমুখী আয়ের উৎস তৈরির গুরুত্ব।
ভাসওয়ানি আরও কয়েকজন তারকার উদাহরণ তুলে ধরেন, যারা অভিনয়ের বাইরে বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। যেমন ড্যানি ডেনজংপা—যিনি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সিকিমে সফল ব্রিউয়ারি ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। একইভাবে রাজেন্দ্র কুমার বিনিয়োগে বিচক্ষণতার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সম্পদ অর্জন করেছিলেন।
এছাড়া আমির খান, অনিল কাপুর, বোমান ইরানি—জিতেন্দ্র-এর নামও উঠে আসে আলোচনায়। বিশেষ করে আমির খানকে একজন দূরদর্শী নির্মাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যিনি ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি করেছেন।
ভাসওয়ানির বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমির খান ও শাহরুখ খান দুজনের পথ ভিন্ন হলেও সাফল্য সমান উজ্জ্বল। একজন যেখানে কনটেন্টনির্ভর চলচ্চিত্রে নিজের ছাপ রেখেছেন, অন্যজন সেখানে ব্যবসায়িক দূরদর্শিতায় গড়ে তুলেছেন এক বিশাল সাম্রাজ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, বলিউডে টিকে থাকতে এখন শুধু অভিনয় নয়, আর্থিক পরিকল্পনা ও বহুমুখী বিনিয়োগই তারকাদের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠছে।