- ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির সরকার। ১২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো নারী এই সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ বিভাগের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কইল আগামী জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়ার সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
দীর্ঘ প্রায় চার দশকের সামরিক ক্যারিয়ারে সুসান কইল আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্বসহ একাধিক উচ্চপদস্থ দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকার বলছে, তার অভিজ্ঞতা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র, বিশেষ করে সাইবার যুদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, “আগামী জুলাই থেকে আমরা অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান পেতে যাচ্ছি এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে “গভীরভাবে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সুসান কইলের এই অর্জন নারী সেনা সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “তুমি যা দেখতে পারো না, তা হতে পারো না এই বাস্তবতা এখানে বদলাতে শুরু করেছে।”
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব পর্যায়ে তা ১৮.৫ শতাংশ। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ ঘিরে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলাও দায়ের করা হয়েছে, যেখানে হাজারো নারী সদস্যকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে সামরিক নেতৃত্বে আরও বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ADF) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি।