Saturday, April 11, 2026

অর্থনীতি চাপে, আস্থা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ: সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য


ছবিঃ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে চাপে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান—সব মিলিয়ে অর্থনীতির সামনে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন বর্তমান সরকারের জন্য বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ ধারায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি গত দেড় দশকের অর্থনৈতিক প্রবণতার একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬.৮ শতাংশ, তা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিও এই চাপকে ত্বরান্বিত করেছে।

তিনি বলেন, অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে শিল্প ও সেবা খাতে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। ফলে অনেক মানুষ কৃষি খাতে যুক্ত হলেও উৎপাদনশীলতা কম থাকায় ‘ছদ্ম বেকারত্ব’ বাড়ছে। এ প্রবণতা ‘জবলেস গ্রোথ’-এর ঝুঁকি তৈরি করছে।

ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং অনেক ব্যাংক কার্যত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। মূলধন পর্যাপ্ততা কমে যাওয়ায় আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সরকারি ব্যয় বাড়ার তুলনায় রাজস্ব আহরণ কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ায় বাজেট ঘাটতি কমানো যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধও ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে, যা উন্নয়ন ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আয় বৈষম্য বেড়ে যাওয়ায় সমাজে অসমতা তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা নীতিনির্ধারণে বাধা সৃষ্টি করছে।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। মূল্যস্ফীতি কমানো, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে (এসএমই) গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার কারণে অতিরিক্ত ভর্তুকির চাপ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন অর্থমন্ত্রী। এতে বাজেট ও রিজার্ভ—দুটির ওপরই প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবশেষে তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন