- ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। বরং সেপ্টেম্বরের ধারাবাহিকতায় অক্টোবরেও বেড়েছে অধিকাংশ পণ্যের দাম। সদ্য সমাপ্ত মাসে দেশে নিত্যপণ্যের মূল্য গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে মাছের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, গড়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ। সব মিলিয়ে দুই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।
কনজুমারস ফোরামের (সিএফ) সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বাজারদর বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন মালেকের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করা দামের ভিত্তিতে এ বিশ্লেষণ তৈরি করেছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরে ১৫ ধরনের পণ্যের দাম গড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও জিরা মিলিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম ৬ দশমিক ০২ শতাংশ, চিনির ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ভোজ্য তেল ও ডালডার দাম ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে।
একই সময়ে আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং চালের দাম গড়ে ২ দশমিক ৬২ শতাংশ। ডিমের দাম ১ দশমিক ৪২ শতাংশ, মাংসের ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং চায়ের দাম ০ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। অক্টোবরে সাত ধরনের পণ্যের মূল্য অপরিবর্তিত ছিল। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে লবণ, দুগ্ধজাত পণ্য, ব্রাশ ও টুথপেস্ট, চানাচুর ও বিস্কুট, ১১টি ব্র্যান্ডের নিত্যব্যবহৃত ওষুধ এবং খাতা-কলম। অন্যদিকে শাকসবজির দাম ৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সোনা-রুপার দাম ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমেছে।
শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় শাকসবজির দাম কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যশোর, বগুড়া ও রংপুরের বাজার থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ১২ টাকায়। মূলা প্রতি কেজি ৬ থেকে ৮ টাকা, প্রতিটি লাউ ৮ থেকে ১০ টাকা এবং কলার হালি ৫ থেকে ৮ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে রাজধানীর বাজারে একই পণ্যের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। ঢাকায় প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকায়। পেঁপে ও মূলা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, প্রতিটি লাউ ৬০ টাকা এবং কাঁচকলার হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কম দামে সবজি বিক্রি করেও অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না তারা।
সিএফের হিসাব বলছে, গত সেপ্টেম্বরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছিল ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। পরের মাসে আরও ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে দুই মাসের সম্মিলিত মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানোর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, পণ্যমূল্য এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। শুধু বেতন-ভাতা বাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। বাড়িভাড়া, দোকানভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনের খরচও মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখা জরুরি।
এ পরিস্থিতিতে অতিমুনাফার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে সিএফ। গ্রামপর্যায়ে কৃষিপণ্যের উৎপাদনমূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ের বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে সংগঠনটি। এ ক্ষেত্রে বাজার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মেরাদিয়া, আফতাবনগরের ভূঁইয়া বাজার এবং মীনা বাজার ও স্বপ্ন সুপারশপ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কনজুমারস ফোরাম।