Thursday, February 5, 2026

নিপাহ সংক্রমণ ঠেকাতে তৎপর ভারত, নজরদারিতে ১৯৬ জন সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি


ছবিঃ ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় নিপাহ ভাইরাসের আগের একটি প্রাদুর্ভাবের পর ২০২৪ সালে স্থাপিত নিপাহ আইসোলেশন ওয়ার্ডে একজন রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্বেগ ছড়ালেও ভারতে নিপাহ ভাইরাসের সাম্প্রতিক সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। ভারতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে শনাক্ত হওয়া দুটি নিপাহ আক্রান্তের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, আক্রান্ত দুই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মোট ১৯৬ জনকে চিহ্নিত করে নজরদারিতে আনা হয়েছে। তাঁদের সবাইকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কারও শরীরে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দূর করতেই এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাড়তি নজরদারি, পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা মূলত বাদুড় ও শূকরের মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শেও ছড়াতে পারে। ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৯০–এর দশকে মালয়েশিয়ায়। এখন পর্যন্ত নিপাহের কোনো কার্যকর টিকা নেই। চিকিৎসা বলতে রোগীর জটিলতা নিয়ন্ত্রণ ও সহায়ক সেবাই প্রধান ভরসা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা একে অত্যন্ত প্রাণঘাতী করে তুলেছে।

এদিকে ভারত সরকার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও সংক্রমণের আশঙ্কায় কয়েকটি এশীয় দেশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং চিকিৎসাকর্মীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ চালু করেছে। ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড বড় বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, তাপমাত্রা যাচাই এবং পর্যবেক্ষণ বাড়িয়েছে।

মিয়ানমার পশ্চিমবঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এবং বিমানবন্দরে জ্বর শনাক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াও সীমান্ত ও আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বৃদ্ধি করেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রথম মানবদেহে নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়ে, যেখানে শতাধিক মানুষ মারা যান। পরবর্তীতে বাংলাদেশ, ফিলিপাইন ও ভারতেও নিপাহের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। ভারতের কেরালা রাজ্যে ২০১৮ সাল থেকে প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ আক্রান্তের খবর মিলছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন