- ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দীর্ঘ এক দশকের যাত্রার ইতি টানল জনপ্রিয় সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’। বাংলাদেশ সময় আজ সকালে মুক্তি পেয়েছে পঞ্চম ও শেষ মৌসুমের শেষ পর্ব। তবে এই বিদায় পর্ব দেখার আগ্রহ এতটাই তীব্র ছিল যে মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই নেটফ্লিক্সে দেখা দেয় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিভ্রাট।
বুধবার রাত থেকে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল) বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীরা নেটফ্লিক্সে প্রবেশ করতে না পারার অভিযোগ জানান। শেষ পর্ব মুক্তির মুহূর্তেই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটি কয়েক মিনিটের জন্য অকার্যকর হয়ে পড়ে। একাধিকবার রিফ্রেশ করার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
যাঁরা সমস্যার মুখে পড়েছিলেন, তাঁদের পর্দায় ভেসে ওঠে একটি পরিচিত বার্তা—নেটফ্লিক্সের একটি জনপ্রিয় শোর ছবি দেখিয়ে জানানো হয়, সাময়িক সমস্যার কারণে অনুরোধটি সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। এর আগেও চলতি মৌসুমে একই ধরনের বার্তা দেখে হতাশ হয়েছিলেন দর্শকরা।
এর আগে গত ২৬ নভেম্বর পঞ্চম মৌসুমের প্রথম ধাপের পর্বগুলো মুক্তির সময়ও কয়েক মিনিটের জন্য নেটফ্লিক্স কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। এমনকি অতীতেও ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর নতুন পর্ব মুক্তির সময় একাধিকবার প্রযুক্তিগত চাপ সামলাতে হিমশিম খেয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
তবে সব বাধা ছাপিয়ে সিরিজটির জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। বড়দিনে মুক্তি পাওয়া পঞ্চম মৌসুমের দ্বিতীয় ধাপ কোনো সমস্যায় না পড়েই রেকর্ড গড়ে। ওই দিনই নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে বড়দিনে সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা এনে দেয় সিরিজটি।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মাত্র সাত দিনে এই শেষ মৌসুম দেখা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটিবার। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই এটি ইংরেজি ভাষার সিরিজ হিসেবে নেটফ্লিক্সের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী ভিউয়ের রেকর্ড গড়ে, যা স্ট্রিমিং দুনিয়ায় নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুধু অনলাইনে নয়, বিদায়ের এই আবেগকে ভিন্ন মাত্রা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত কিছু প্রেক্ষাগৃহে বড় পর্দায়ও দেখানো হচ্ছে সিরিজ ফাইনাল। নির্মাতাদের তথ্যমতে, দেশটির শত শত হলে হাজারের বেশি প্রদর্শনীর টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।
সিরিজটির সহস্রষ্টা ডাফার ভাইরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় জানান, দশ বছরের এই যাত্রা দর্শকদের সঙ্গে একসঙ্গে শেষ করাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। দর্শকদের ভালোবাসা আর আগ্রহেই ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ আজ শুধু একটি সিরিজ নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।
নেটফ্লিক্সের সার্ভার কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেলেও, দর্শকদের স্মৃতিতে ‘হকিন্স’-এর গল্প হয়তো আরও বহুদিন অমলিন থাকবে।