- ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সব প্রার্থী সমান আচরণ পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কমিশন ও প্রশাসন বৈষম্যমূলক অবস্থান নিচ্ছে।
বুধবার ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কড়াইল বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। অথচ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্য, “একই সময়ে আমাদের দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু অন্য এক প্রার্থীর প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতির ঘটনায় কমিশনের নীরবতা প্রমাণ করে সব প্রার্থীকে এক চোখে দেখা হচ্ছে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তার ভাষায়, “একজন প্রার্থীর জন্য এক নিয়ম, আর অন্যদের জন্য আরেক নিয়ম এটা নির্বাচনের মাঠকে অসম করে তুলছে।”
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করতে পারবেন। এর আগে কোনো ধরনের প্রচার কার্যক্রম নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
এনসিপির ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারে দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন। এর একটি হলো এই আসনের সাবেক প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, “ওসমান হাদি যে ইনসাফভিত্তিক ঢাকা-৮ গড়তে চেয়েছিলেন, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই আমাদের রাজনীতি।”
আগামীকাল বৃহস্পতিবার শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, এনসিপি পেশিশক্তি বা অর্থনির্ভর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
এর আগে গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইনের একটি ব্যানার লাগানোর ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ওই ব্যানারে কোনো নির্বাচনী প্রতীক ছিল না। তারপরও শোকজ করা হয়েছে এবং ব্যানারটি প্রশাসন ও একটি রাজনৈতিক দলের লোকজন একসঙ্গে খুলে ফেলেছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি প্রশাসন ও একটি রাজনৈতিক দল একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্ব নেবে কে?”
এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কোনো প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানালে তা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সময় নানা অভিযোগ আসতেই পারে, তবে যেসব বিষয় কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত, সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।