Sunday, April 19, 2026

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় পুঁজিবাজারে অনিশ্চয়তা


প্রতীকী ছবিঃ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির খবরে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল। সপ্তাহ শেষে সূচক সামান্য কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে। একই সময়ে ডিএস-৩০ সূচকও কমেছে, তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস সামান্য বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে বিক্রির চাপ থাকায় সামগ্রিক সূচক স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের শেয়ারে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি কমে যায়।

লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯০টি কোম্পানি ও আর্থিক উপকরণের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির দর কমেছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ারের পতন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে সূচক স্থবির থাকলেও লেনদেন বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে দৈনিক গড় লেনদেন ২২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের সীমিত আস্থার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

খাতভিত্তিক লেনদেনে প্রকৌশল খাত শীর্ষে ছিল। এছাড়া ওষুধ ও রসায়ন, সাধারণ বীমা, বস্ত্র এবং ব্যাংক খাতেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে কিছু শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও তা টেকেনি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং করপোরেট আয়ের ঘোষণার অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বাজারে বারবার ক্রয়-বিক্রয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং দেশের অর্থনৈতিক সূচকে স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা কঠিন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন