Sunday, September 27, 2026

মার্কিন ব্যবহৃত ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক আইনে কয়েকজন গ্রেপ্তার


ছবিঃ গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের কাছে জরুরি পরিষেবার যানবাহন দাঁড়িয়ে আছে (সংগৃহীত । আল জাজিরা /টবি শেফার্ড/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটির কাছে কয়েকজনকে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিরাপত্তার কারণে বিমানঘাঁটির আশপাশের কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ জানায়, ওয়েলফোর্ড এলাকার কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদের কাছের একটি অবসরকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ‘বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি’ ঘোষণা করা হয়েছে।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করছে। বিস্ফোরক আইনের আওতায় অপরাধের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে এই ঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র পুলিশ বিমানঘাঁটির প্রধান প্রবেশপথে অবস্থান নেয়। ঘাঁটিতে প্রবেশের বিভিন্ন পয়েন্টেও নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়। আশপাশের ফেয়ারফোর্ড শহরে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল বাহিনীর প্রায় ৩০টি জরুরি যান মোতায়েন করা হয়েছে।

গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটি ঘাঁটির আশপাশের এলাকায় সীমাবদ্ধ বলে তারা মনে করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

তবে কী কারণে ওই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে কি না কিংবা গ্রেপ্তারের সঙ্গে বিমানঘাঁটির কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির বিষয়ে অবগত। তবে নিরাপত্তার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি তারা। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর ৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইংসহ অন্যান্য মার্কিন ইউনিট সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সদস্য ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে তিনটি মার্কিন বি-১বি ল্যান্সার বোমারু বিমান আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে অবতরণ করেছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রথম দিকের একটি অভিযান ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

এর আগে জুলাইয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছিল, ইরানে হামলা চালাতে ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

তবে রোববারের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা অভিযানের সঙ্গে ইরানকে যুক্ত করেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। একইভাবে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল—এমন কোনো তথ্যও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন