- ০১ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুমিল্লা
কুমিল্লা জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দের বড় একটি অংশ জেলার দুটি উপজেলায় কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর নাম উল্লেখ করেন।
শনিবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাক মিয়া এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি।
বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, বিশেষ বরাদ্দের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মতে, এর ফলে জেলার অন্যান্য উপজেলা তুলনামূলকভাবে কম সুবিধা পেয়েছে এবং উন্নয়ন বণ্টনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।
তবে পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মোস্তাক মিয়া জানান, তিনি কোনোভাবেই অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণের অভিযোগ করেননি। তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনের বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরা। তিনি দাবি করেন, ওই অর্থবছরে জেলার অধিকাংশ উপজেলা উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলায় যায়। একই সময়ে অন্য কয়েকটি উপজেলা সীমিত পরিমাণ বরাদ্দ পেলেও জেলার বেশির ভাগ উপজেলা বড় কোনো প্রকল্পভিত্তিক অর্থ বরাদ্দ পায়নি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, উন্নয়ন বরাদ্দ কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না; বরং সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, দেবীদ্বারে যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, তার সব তথ্য প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তা প্রকাশ করা যেতে পারে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, জনগণের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ আনা একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, আলোচিত অর্থ স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ উন্নয়ন তহবিলের আওতায় এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে বরাদ্দ হয়েছিল এবং জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব খাতের অর্থ ছিল না।
তিনি জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, বক্তব্যটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। বাস্তবে অর্থ সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে, কোনো ব্যক্তি তা গ্রহণ করেননি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা এবং সংকটকালে জনগণের পাশে থাকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি নেতা-কর্মীদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু)সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।