- ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চরম সংকটে থাকা অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক দুর্বলতার কারণে ৯টি এনবিএফআইয়ের মধ্যে ৬টিকে বন্ধ বা অবসায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে (বিআইএফসি) আপাতত অবসায়ন না করে তাদের আর্থিক সূচক উন্নয়নের জন্য তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সভা শেষে জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ এবং যাদের খেলাপি ঋণের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকে অবসায়নের তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং ঋণের অর্থ আত্মসাতের ফল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত বছরের মে মাসে ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা অগ্রহণযোগ্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুনানি শেষে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে শেষবারের মতো কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হলেও ছয়টির ক্ষেত্রে অবসায়নের সিদ্ধান্ত কার্যত চূড়ান্ত হয়েছে।
আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বিশেষ করে আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযুক্ত পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এই আর্থিক বিপর্যয়ের ফলে হাজার হাজার আমানতকারী দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে পবিত্র রমজানের আগেই তাদের মূলধন ফেরত পাবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধে একটি বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দে সম্মতি দিয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে আমানতকারীরা কেবল তাদের জমা দেওয়া মূল অর্থ ফেরত পাবেন, সুদ দেওয়া হবে না।
এদিকে সংশ্লিষ্ট এনবিএফআইগুলোর সম্পদের মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই শেয়ারহোল্ডারদের পাওনা নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় থাকা আমানতকারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।