Friday, February 6, 2026

চার বছরে সর্বনিম্ন ডলার ইনডেক্স, বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাবের আশঙ্কা


ছবিঃ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে ডলারের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে মার্কিন ডলার। বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান পরিমাপকারী সূচক ‘ডলার ইনডেক্স’ নেমে এসেছে ৯৫ দশমিক ৫৬৬ পয়েন্টে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) প্রকাশিত ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম ডলার এমন দুর্বল অবস্থানে পৌঁছাল। ডলারের এই দরপতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক পণ্যবাজারে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলার অতিক্রম করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনিশ্চয়তাই ডলারের এই দুর্বলতার প্রধান কারণ। ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে নীতি সুদহার আরও কমাতে পারে—এমন ধারণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডলার নিয়ে অনাস্থা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি, শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতায় রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণসহ অন্যান্য নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন অর্থনীতির বর্তমান অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে ডলারের মান আরও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডলারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই আইওয়ায় এক ভাষণের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ডলারের মান কমুক—এমনটি চান না। বর্তমান অবস্থানকে তিনি ‘দারুণ’ বলে উল্লেখ করলেও তার বক্তব্য বাজারে আস্থা ফেরাতে পারেনি। বরং তার মন্তব্যের পর ডলারের পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে বলে লক্ষ্য করা গেছে।

সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, হোয়াইট হাউস ভবিষ্যতে দুর্বল ডলার নীতির দিকেই ঝুঁকতে পারে—এমন ধারণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জোরালো হচ্ছে, যা স্বর্ণের বাজারকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

ডলারের মান চার বছরের সর্বনিম্নে নেমে যাওয়ায় মঙ্গলবার একদিনেই স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। বুধবার সেই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থেকে দাম ৫ হাজার ২০০ ডলারের সীমা ছাড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য দুর্বল ডলার স্বল্পমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও স্বর্ণ ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মহল এখন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে গভীর নজর রাখছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন