- ১৬ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ফ্রান্সে শুরু হতে যাওয়া জি-৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে যাচ্ছে। বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ দেওয়া হতে পারে যাতে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে দ্রুত চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যিনি সুইজারল্যান্ড সীমান্তের কাছে এভিয়ঁ-লে-বাঁ শহরে সম্মেলনের আয়োজন করছেন, জানিয়েছেন যে আলোচনার প্রধান লক্ষ্য হবে একটি “দৃঢ় ও বাস্তবসম্মত চূড়ান্ত চুক্তি” নিশ্চিত করা।
মঙ্গলবারের বৈঠকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা এবং বিকল্প জ্বালানি পরিবহন রুট খুঁজে বের করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এ লক্ষ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে সম্ভাব্য একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা মিশন নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী শুক্রবারের মধ্যে “সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত” করা হবে, যেদিন জেনেভায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার ডিজিটালি স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে।
চুক্তির আলোচনায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
জি-৭ জোটের সদস্য দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ইতালি যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অগ্রগতিকে “কূটনৈতিক সাফল্য” হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক নৌচলাচল স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও মিসরের নেতারাও সম্মেলনে অংশ নিলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবেন না বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
সম্মেলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে পূর্বের শান্তি প্রস্তাবগুলো রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সুবিধাজনক ছিল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে অংশ নেবেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন বলেন, ইউক্রেন বর্তমানে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারও করছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার অর্থনীতি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে চাপের মুখে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। ইউরোপীয় দেশগুলো চায়, যুদ্ধ অবসানে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো হোক এবং একই সঙ্গে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হোক।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি জেলেনস্কি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উভয়ের সঙ্গেই ইতিবাচক আলোচনা করেছেন এবং তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আগ্রহী বলে মনে করেন।
জি-৭ সম্মেলন তাই বৈশ্বিক কূটনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দুই বড় সংঘাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ হতে পারে।