Tuesday, May 5, 2026

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, অডিটে ১২ কোটির বেশি ক্ষতির ইঙ্গিত


প্রতীকী ছবিঃ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক নিরীক্ষায় বিভিন্ন খাতে অনিয়মের কারণে সরকারের ১২ কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি বিধি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর নির্দেশনা এবং জাতীয় বেতন কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। ফলে একাধিক খাতে আর্থিক অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।

অডিটে দেখা গেছে, ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই নির্ধারিত বাজেটের বাইরে প্রায় ৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেই কয়েকজন প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে।

এছাড়া নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে শর্ত লঙ্ঘন, বেতন-ভাতা প্রদানে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট, এবং বিধি বহির্ভূতভাবে বকেয়া ভাতা পরিশোধের ঘটনাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। শুধু বেতন-ভাতা সংক্রান্ত অনিয়মেই প্রায় ৩ কোটির বেশি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজস্ব খাতেও অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে। বিভিন্ন বিল থেকে নির্ধারিত হারে ভ্যাট ও আয়কর কর্তন না করায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অনলাইন বৈঠকেও পূর্ণ সম্মানী প্রদান এবং একই দিনে একাধিক বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য একাধিক সম্মানী দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, অর্গানোগ্রামে না থাকা পদে নিয়োগ এবং লিয়েনে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিধি মানা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ব্যবস্থাপনাতেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এক খাতের বরাদ্দ অন্য খাতে ব্যয়, সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে কেনাকাটা এবং অনুমোদিত সীমার বাইরে ব্যয় করার ঘটনাও চিহ্নিত হয়েছে।

এ বিষয়ে মো. কামরুল আলম বলেন, অডিট আপত্তিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাদের জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান জানিয়েছেন, তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অডিট রিপোর্ট পাননি। রিপোর্ট হাতে পেলে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অনিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন