Saturday, February 14, 2026

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র


ছবিঃ মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে (সংগৃহীত ছবি: মার্কিন নৌবাহিনী / ড্যানিয়েল কিমেলম্যান)

PNN আন্তরজাতিক ডেস্কঃ

ওয়াশিংটন, ১৩ ফেব্রুয়ারিঃ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী টানা সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বিষয়টি জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা, যারা সংবেদনশীল পরিকল্পনার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন। তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, এমন অভিযান হলে তা অতীতের যেকোনো যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনার চেয়ে বেশি বিস্তৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

কূটনৈতিক পর্যায়ে যখন আলোচনার চেষ্টা চলছে, তখন এই প্রস্তুতির খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত সপ্তাহে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকদের মধ্যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করে ওয়াশিংটন, যা নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। এর সঙ্গে হাজারো অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিভিন্ন হামলা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ সম্ভাব্য আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ—উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।

নর্থ ক্যারোলিনায় মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো “সহজ নয়”। তিনি মন্তব্য করেন, কখনও কখনও “ভয়” দেখানোই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কার্যকর উপায় হতে পারে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের সামনে “সব ধরনের বিকল্পই খোলা” রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।

পেন্টাগন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় এ অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছিল। জুন মাসে পরিচালিত “মিডনাইট হ্যামার” নামের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ বোমারু বিমান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে গিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে। জবাবে ইরান কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পরিসরে পাল্টা হামলা চালায়।

তবে সম্ভাব্য নতুন অভিযানের ধরন ভিন্ন হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে কেবল পারমাণবিক অবকাঠামো নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযান হলে মার্কিন বাহিনীর জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি হবে। ইরানের হাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে, যা দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করতে পারে। পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে অঞ্চলে থাকা যেকোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা যেন ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ সুরক্ষিত করে—এটি নিশ্চিত করতে হবে।

ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনার অংশ করার প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

সব মিলিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সামরিক প্রস্তুতি—দুটি সমান্তরাল পথে অগ্রসর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক নতুন এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখন নির্ভর করছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।

তথ্যসূত্রঃ রয়টার্স

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন