- ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত প্রায় ৫০ দিনে বিশ্ববাজারে উৎপাদন না হওয়া অপরিশোধিত তেলের মূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অনুভূত হতে পারে।
সংকটের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি ব্যারেল তেল ও কনডেনসেট বাজার থেকে হারিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সংস্থার হিসাব বলছে। এই পরিমাণ ঘাটতি সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। মার্চ মাসে তাদের তেল উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। দৈনিক প্রায় ৮ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ চাপে পড়ে।
একই সঙ্গে জেট ফুয়েল রপ্তানিতেও বড় ধস নেমেছে। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান থেকে জেট ফুয়েল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক তেলের দাম গড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। এতে উৎপাদন ঘাটতির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে, আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সমাধানের সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কুয়েত ও ইরাকের ভারী তেলক্ষেত্রগুলো আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, আর কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি পূরণে বছরও লেগে যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এই সংকট শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, পরিবহন ও শিল্প খাতেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।