Tuesday, February 24, 2026

ইরান হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক: ট্রাম্পের কড়া প্রতিক্রিয়া


ছবিঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ জানুয়ারি ২০২৬ সালে ফ্লোরিডার পাম বিচে মার-আ-লাগোতে বসে আছেন, যখন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কথা বলছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা । অ্যলেক্স ব্র্যান্ডন/এপি ফটো)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সতর্কবার্তা সম্পর্কিত সংবাদকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং মার্কিন হতাহতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন জেনারেল কেইন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব প্রতিবেদন অস্বীকার করে বলেন, জেনারেল কেইন কখনোই ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের বিরোধিতা করেননি। বরং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই জয়ী হতে পারবে বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্পের দাবি, সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে যেসব বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।

এর আগে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, সাম্প্রতিক এক বৈঠকে জেনারেল কেইন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে এসেছে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের পূর্ণ সমর্থন না থাকলে ইরানের পাল্টা জবাব মোকাবিলা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দাবি করেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে নিয়মিত ব্রিফ করছেন জেনারেল কেইন। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানুয়ারির পর থেকে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেননি।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে আগ্রাসী অবস্থান নিলেও ইরান প্রশ্নে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন জেনারেল কেইন। একাধিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালে যুক্তরাষ্ট্র জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে ইরানকে একাধিক শর্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তা না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সামরিক শক্তি জড়ো করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, উসকানিমূলক হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইরান জানিয়েছে, তারা আলোচনায় আগ্রহী হলেও একতরফা চাপ বা আগ্রাসন মেনে নেবে না। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি অবস্থানকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান।

পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্ভাব্য সংঘাত শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন