- ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ফিফা ও উয়েফার মধ্যকার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে উয়েফা। তবে এই তথ্য সংগ্রহের পথ আটকে দিতে ফিফার দুটি মার্কিন সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদালতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলেও তার বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দেওয়া এক জবাবে উয়েফা দাবি করেছে, ফিফা আমেরিকাস ইনক ও এফডব্লিউসি ২০২৬ ইউএস ইনক মূলত ফিফা ও ইনফান্তিনোর স্বার্থ রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও সংশ্লিষ্ট মামলায় ফিফা বা ইনফান্তিনো নিজেরা পক্ষ হওয়ার আবেদন করেননি।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত এবং পরে বাতিল হওয়া ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা। ওই পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও পরিচালন অধিকার থেকে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
উয়েফার দাবি, ওই পরিকল্পনার পেছনে কী ধরনের আলোচনা ও আর্থিক কাঠামো কাজ করেছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকতে পারে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের আইনের ২৮ ইউএসসি সেকশন ১৭৮২-এর আওতায় তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে উয়েফা।
এই প্রক্রিয়ায় নিউইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এবং এর প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনারের কাছ থেকে নথি ও সাক্ষ্য চাওয়া হয়েছে। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা নিয়ে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে বলে মনে করছে উয়েফা।
উয়েফার এই তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সম্ভাব্য আরও বড় আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি। ইউরোপীয় সংস্থাটি সুইজারল্যান্ডে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্ভাব্য অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে ফৌজদারি অব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামনে আসতে পারে। এতে ইনফান্তিনোর পাশাপাশি ফিফার আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনো বা ফিফার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা চার্জ গঠন হয়নি। ইনফান্তিনোও কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উয়েফার চাওয়া নথি ও সাক্ষ্য শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডে কোনো আইনি পদক্ষেপে ব্যবহৃত হবে কি না, কিংবা তা থেকে কোনো ফৌজদারি মামলা এগিয়ে যাবে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এই উদ্যোগ বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রভাবশালী সংস্থার মধ্যকার বিরোধকে যে নতুন আইনি পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তা স্পষ্ট।