Monday, January 19, 2026

হলিউডে প্লাস্টিক সার্জারির অতি নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেট উইন্সলেট


ছবিঃ কেট উইন্সলেট (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

অস্কারজয়ী অভিনেত্রী কেট উইন্সলেট সম্প্রতি দ্য সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলিউডে নারীদের প্লাস্টিক সার্জারির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তরুণ অভিনেত্রীরা ইনস্টাগ্রামের লাইক এবং সামাজিক স্বীকৃতি পেতে নিজেদের শরীরকে ‘নিখুঁত’ করার জন্য অন্ধভাবে দৌড়াচ্ছেন, যা তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে।

উইন্সলেট বলেন, “আমি নাকি খুব মোটা ছিলাম! মানুষ এত নিষ্ঠুর ছিল কেন? আমি মোটেও মোটা ছিলাম না। তখন আমি তরুণী, শরীর বদলাচ্ছিল, নিজের অস্তিত্ব নিয়ে অনিশ্চিত এবং ভীষণ ভীত এই অবস্থায় আমার প্রতি তারা আরও কঠোর হয়ে উঠেছিল। এটা নিছকই বুলিং এবং সত্যি বলতে সীমা ছাড়ানো নির্যাতন।”

তিনি আরও বলেন, “কারও আত্মসম্মান যদি পুরোপুরি নিজের চেহারার ওপর নির্ভর করে, সেটা ভয়ের বিষয়। কখনো কখনো মনে হয় পরিস্থিতি বদলাচ্ছে লালগালিচায় বিভিন্ন আকৃতির, নিজেদের মতো করে সাজা অভিনেত্রীদের দেখি। আবার দেখি অনেকেই ওজন কমানোর ওষুধ নিচ্ছেন। কেউ নিজের মতো থাকতে চাইছেন, কেউ আবার যেভাবেই হোক নিজেকে বদলে ফেলতে চাইছেন। নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি এই অবহেলা ভয়ঙ্কর।”

উইন্সলেটের মতে, প্লাস্টিক সার্জারির এই প্রবণতা শুধু অভিনেত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ নারীরাও বোটক্স বা ঠোঁটে ফিলার নেওয়ার জন্য অর্থ সংরক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, “আমার সবচেয়ে ভালো লাগে যখন আমার বয়স বোঝা যায়। আমার পরিচিত অনেক সুন্দরী নারী ৭০ বছরের বেশি বয়সেও দারুণ দেখায়। কিন্তু যা সবচেয়ে কষ্ট দেয় তরুণীরা জানে না আসলে সৌন্দর্য বলতে কী বোঝায়।”

উল্লেখ্য, কেট উইন্সলেট অতীতে বহুবার বডি-শেমিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ‘টাইটানিক’-এর সাফল্যের পর তিনি প্রকাশ্যভাবে অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন, যেখানে তাকে অপমান করা হতো তার শরীর নিয়ে। তিনি বলেন, “সেই সময় পরিস্থিতি ভয়ংকর ছিল। সত্যিই খুব খারাপ ছিল। আমি তখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবাদ করেছি।”

কেট উইন্সলেটের এই বক্তব্য সমাজে যুবতীদের উপর চাপ এবং সৌন্দর্যবোধের ওপর অতিরিক্ত মনোযোগের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন