- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
হলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক ও অভিনেতা রব রাইনার এবং তাঁর স্ত্রী নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে।
রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, লস অ্যাঞ্জেলেসের ব্রেন্টউড এলাকায় অবস্থিত রাইনারের বাড়িতে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে তিনটার কিছু পর চিকিৎসা সহায়তার কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ৭৮ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ৬৮ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, নিহতরা হলেন ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’, ‘দিস ইজ স্পাইনাল ট্যাপ’, ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’ ও ‘স্ট্যান্ড বাই মি’-এর মতো জনপ্রিয় ছবির নির্মাতা রব রাইনার এবং তাঁর স্ত্রী। চলতি বছরের মার্চে ৭৮ বছরে পা দেন রাইনার।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, দুজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় পরিবারের এক সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা, তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
রব রাইনার শুধু পরিচালক হিসেবেই নয়, অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকের জনপ্রিয় টেলিভিশন কমেডি সিরিজ অল ইন দ্য ফ্যামিলি-তে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। তিনি কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা ও লেখক কার্ল রাইনারের পুত্র।
চলচ্চিত্র জগতের বাইরে রাইনার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণায় অংশ নেন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস এক বিবৃতিতে বলেন, “রব রাইনারের সৃজনশীল কাজ ও সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে তাঁর অবস্থান আমেরিকান সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।”
রাইনার ১৯৮৯ সালে আলোকচিত্রী মিশেলকে বিয়ে করেন। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। এর আগে তিনি অভিনেতা ও পরিচালক পেনি মার্শালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন এবং তাঁর কন্যাকে দত্তক নেন।
ঘটনাটি ঘিরে হলিউড অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাইনারের প্রতিনিধিরা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।