- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস গাজায় ইসরায়েলি হামলায় তাদের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার রায়েদ সাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হামাসের কোনো শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে আলোচিত ও বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড বলে মনে করা হচ্ছে।
হামাসের গাজা শাখার প্রধান খলিল আল-হাইয়া রোববার এক ভিডিও বার্তায় রায়েদ সাদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল সরাসরি যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
আল-হাইয়া বলেন, “ইসরায়েলের চলমান লঙ্ঘনের অংশ হিসেবেই গতকাল আমাদের এক কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কাছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি—চুক্তির প্রধান গ্যারান্টর হিসেবে যেন তারা দখলদার শক্তিকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করে।”
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার গাজা শহরের কাছে চালানো এক হামলায় রায়েদ সাদকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওই হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েল দাবি করেছে, সাদ হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিলেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন।
হামাস সূত্রগুলো বলছে, রায়েদ সাদ সংগঠনটির সশস্ত্র শাখার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ছিলেন এবং অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০টির কাছাকাছি হামলায় অন্তত ৩৮৬ জন নিহত হয়েছেন, যা যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন।
এ ছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মানবিক সহায়তা প্রবেশের কথা থাকলেও ইসরায়েল তা বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ‘বাইরন’-এর প্রভাবে গাজার প্রায় ২৭ হাজার তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক লাখ মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যেখানে গাজায় অবাধ মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে, জাতিসংঘের স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে এবং আন্তর্জাতিক আইন মানতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
খলিল আল-হাইয়া বলেন, হামাসের অগ্রাধিকার এখন যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ সম্পূর্ণ করা, যার মধ্যে হাসপাতাল ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রবেশের অনুমতি অন্তর্ভুক্ত। তিনি মিসরের সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত দুই দিকেই খুলে দেওয়ার দাবি জানান এবং দ্বিতীয় ধাপে দখলদার বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করেন।
যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে হামাস নেতারা স্পষ্ট করেছেন, কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী থাকলেও তাদের ভূমিকা কেবল যুদ্ধবিরতি তদারকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। গাজা বা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর কোনো ধরনের অভিভাবকত্ব তারা মেনে নেবেন না বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, তারা যুদ্ধ যাতে আর না ফিরে আসে সে জন্য আলোচনা চালাতে প্রস্তুত, তবে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের মতামত ও শর্ত মানা না হলে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না।