- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে শোক নেমে এসেছে। সিডনির জনপ্রিয় বন্ডাই বিচে একটি ইহুদি ধর্মীয় উৎসব চলাকালে বন্দুকধারীদের হামলায় কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে এক ১০ বছর বয়সী শিশু, একজন রাব্বি এবং হামলাকারীদের একজন।
এই ঘটনাকে জাতির জন্য একটি “অন্ধকার মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি জানিয়েছেন, অস্ত্র আইন আরও কঠোর করতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
পুলিশ জানায়, হামলাটি চালিয়েছে বাবা ও ছেলে—৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এবং তার ২৪ বছর বয়সী সন্তান। ঘটনাস্থলেই বাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়, আর ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয় প্রায় ৪০ জনকে, যাদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের অবস্থাও গুরুতর হলেও স্থিতিশীল।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের কমিশনার জানান, হামলাকারীদের একজন আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে ছিলেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। সন্দেহভাজনদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও স্থানীয় গণমাধ্যমে তাদের পরিচয় উঠে এসেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীদের গাড়ি থেকে উগ্রবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের দুটি পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, সরকার অস্ত্র লাইসেন্স ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে চায়। লাইসেন্সের মেয়াদ, একজন ব্যক্তির কাছে কতগুলো অস্ত্র থাকতে পারবে এবং কোন ধরনের অস্ত্র বৈধ হবে—এসব বিষয় নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি একটি জাতীয় অস্ত্র নিবন্ধন ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
হামলার সময় বন্ডাই বিচে হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ দিগ্বিদিক ছুটে পালাতে শুরু করে। এই হামলার মাঝেই এক সাহসী ব্যক্তি এক বন্দুকধারীকে ঝাঁপিয়ে ধরে নিরস্ত্র করেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে অস্ত্রোপচারের পর তাকে নায়ক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তার চিকিৎসার জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহে বিপুল অর্থ জমা পড়েছে।
ঘটনার পর বন্ডাই বিচ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতদের স্মরণে সেখানে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বাড়তে থাকা বিদ্বেষমূলক হামলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় গণগুলিবর্ষণ সাধারণত বিরল ঘটনা। ১৯৯৬ সালের পর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির প্রায় ২৭ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে আনুমানিক দেড় লাখ ইহুদি নাগরিক বসবাস করেন, যাদের একটি বড় অংশ সিডনিতেই থাকেন।
শোকাহত স্বজন ও ধর্মীয় নেতারা শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ঘৃণার জবাব ঘৃণায় নয়, বরং ঐক্য ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।