- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
হংকংয়ের হাইকোর্ট গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখ ও ‘অ্যাপল ডেইলি’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জিমি লাইকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা তিনটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন। রায়ের ফলে ৭৮ বছর বয়সী এই গণমাধ্যম উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে আজীবন কারাদণ্ডের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকালে তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ রায়ে বলেন, জিমি লাই বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন এবং রাষ্ট্রবিরোধী লেখা প্রকাশে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও আদালত তা গ্রহণ করেননি।
২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে জিমি লাই কারাগারে রয়েছেন। ওই সময় হংকংজুড়ে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রথমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একাধিকবার জামিনে মুক্তি পেলেও আবার গ্রেপ্তার হন এবং এরপর থেকেই তিনি আটক রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাকে হংকংয়ের ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে চীনের কাছে হস্তান্তরের সময় এই নীতির আওতায় হংকংকে সীমিত স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ায় সেই স্বায়ত্তশাসন কার্যত সংকুচিত হয়েছে বলে অভিযোগ মানবাধিকারকর্মীদের।
রায়ে বিচারকরা উল্লেখ করেন, জিমি লাই দীর্ঘদিন ধরে চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শক্তিকে চীনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাতেন। আদালতের ৮৫৫ পৃষ্ঠার রায়ে তাকে একটি ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
রায়ের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণমাধ্যম স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা একে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেছে। সংগঠনগুলোর দাবি, জিমি লাইয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিন্নমত দমনের অংশ।
আগামী ১২ জানুয়ারি জিমি লাইয়ের সাজা নির্ধারণের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রণীত হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’, ‘বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত’ ও ‘উসকানিমূলক প্রকাশনা’র মতো অভিযোগে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের অধীনেই জিমি লাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘অ্যাপল ডেইলি’ হংকংয়ের অন্যতম প্রভাবশালী গণতন্ত্রপন্থী সংবাদপত্র ছিল। ২০২১ সালে সরকারের পক্ষ থেকে পত্রিকাটির সম্পদ জব্দ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের পর সেটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
জিমি লাইয়ের বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তার পরিবার ও আইনজীবীরা মানবিক দৃষ্টিতে শাস্তি লঘুর আবেদন জানিয়ে আসছেন। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতা তার মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন।