- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জুলাই অভ্যুত্থানের মুখ হিসেবে পরিচিত ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে তিনি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে দলগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক এবং ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর হামলার একদিন পর এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, হাদির ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি পূর্বপরিকল্পিত এবং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। তার ভাষায়, একটি শক্তিশালী মহল নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চাইছে এবং তারা ইতোমধ্যে প্রশিক্ষিত শুটার মাঠে নামিয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে একটি ‘প্রতীকী সতর্কবার্তা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আগে প্রধান উপদেষ্টা হাদির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে তাদের সান্ত্বনা দেন।
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরও বৈঠকে অংশ নেন।
প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, তা পরিহার করতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, কিন্তু একে অন্যকে শত্রু ভাবা বা আক্রমণ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সংঘাত অতীতে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করেছে। দলীয় স্বার্থের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর নেতারা ঐক্য ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ বন্ধ করে জাতীয় স্বার্থে এক থাকার বিকল্প নেই। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান জোরদারের পরামর্শ দেন তিনি।
জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাম্প্রতিক বক্তব্যে পারস্পরিক দোষারোপের কারণে বিরোধীরা সুযোগ পাচ্ছে। ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার জন্য মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত প্রচার চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে আবার ‘স্বাভাবিক’ করার চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় নিজেদের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেন নাহিদ।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নিজেদের মধ্যে ঐক্য না থাকলে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই কার্যকর হবে না।
বৈঠক শেষে রাজনৈতিক নেতারা বলেন, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় ঐক্যই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্ব।