- ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
হলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী গিনেথ প্যালট্রো। সম্প্রতি তিনি জানালেন, কেন ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা গ্রেট এক্সপেকটেশনস-এ সহশিল্পী ইথান হকের সঙ্গে একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি।
প্রায় তিন দশক পর সেই স্মৃতি ফিরে দেখেন প্যালট্রো। সিনেমাটির স্মরণে ইথান হকের সঙ্গে এক ভিডিও আলাপচারিতায় অংশ নিয়ে তিনি জানান, তখন এমন দৃশ্য নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা বা অভিনেতাদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পেত না। তবু নিজের অনুভূতির ওপর আস্থা রেখেই তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হননি।
আলোচনার এক পর্যায়ে ইথান হক জানতে চান, পরিচালক অলফোনসো কুয়ারোন তাঁদের চরিত্রের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের কথা ভেবেছিলেন কি না। প্রশ্নটি শুনে প্যালট্রো হেসে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং পরিচালকের কল্পনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দৃশ্যটিতে ক্যামেরা ধীরে ধীরে তাঁর শরীরের ওপর দিয়ে এগোবে এবং শেষে উজ্জ্বল আলোয় মুখের ক্লোজআপে গিয়ে শেষ হতো।
প্যালট্রো বলেন, সে সময় এই ভাবনাই তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতে থাকা একজন অভিনেত্রী হিসেবে বিষয়টি তিনি মানসিকভাবে নিতে পারেননি। বিশেষ করে তাঁর পরিবার, বাবা ও দাদু ওই ধরনের দৃশ্যে তাঁকে দেখবেন এই চিন্তাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি বিচলিত করেছিল।
ইথান হক স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্যালট্রো খুব শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে পরিচালককে জানিয়েছিলেন, তিনি ওই দৃশ্যটি করবেন না। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তে কোনো রকম আগ্রাসন ছিল না, বরং নিজের সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল প্যালট্রোর।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে বলেও স্বীকার করেন গিনেথ প্যালট্রো। তিনি বলেন, এখন হলে হয়তো বিষয়টি নিয়ে এতটা অস্বস্তি বোধ করতেন না। বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, নিজেকে নিয়ে নিরাপত্তাবোধও আগের চেয়ে অনেক বেশি।
ইথান হক এই সিদ্ধান্তের জন্য প্যালট্রোর প্রশংসা করে বলেন, তিনি তখনই বুঝেছিলেন একটি দৃশ্য শুধু পর্দায় নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও নানা অর্থ বহন করে। প্যালট্রোর সেই সচেতনতা ও আত্মসম্মানবোধই তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরেছে।
এই স্মৃতিচারণা আবারও মনে করিয়ে দেয়, হলিউডে আজ যে ‘কমফোর্ট জোন’ ও সম্মতির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, তার বীজ অনেক আগেই বপন করেছিলেন কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী গিনেথ প্যালট্রো তাঁদেরই একজন।