- ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ফরিদপুর
ফরিদপুরে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নগরবাউল জেমসের কনসার্ট শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন–বর্তমান শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের শেষ দিনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় কনসার্টটি বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকেরা। তবে এই ঘটনার জন্য সরাসরি আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল প্রস্তুতিকে দায়ী করেছেন জেমস ও তাঁর টিম।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কনসার্ট আয়োজনকে ঘিরে ফরিদপুর জিলা স্কুলের আশপাশে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুষ্ঠানটি কেবল নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু জেমসের কনসার্টের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার অনিবন্ধিত দর্শক অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে তাঁরা বাইরে অবস্থান নেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাইরে বড় পর্দায় অনুষ্ঠান দেখানোর ব্যবস্থা করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু বহিরাগত দর্শক স্কুলের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মঞ্চ ও দর্শকসারির দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন আহত হন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে আয়োজক কমিটির কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন, যাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সময় জেমস ও তাঁর দল অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে অবস্থান করছিলেন। বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছালে তাঁদের কনসার্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে তাঁরা ঢাকা ফিরে যান। এ বিষয়ে জেমস বলেন, পুরো বিষয়টি আয়োজকদের চরম ব্যর্থতা। এমন বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দর্শক ব্যবস্থাপনায় যথাযথ প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিল্পীর উপস্থিতির খবরে কয়েক দশক হাজার মানুষ জড়ো হয়ে পড়েন, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ফরিদপুর জুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এমন একটি বহুল প্রত্যাশিত কনসার্ট বাতিলের মুখে পড়ত না।