- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এক রাতের ব্যবধানে পরপর দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোরে ক্যাম্প–৪-এর ডি-ব্লকে ভয়াবহ আগুনে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পে আগুনে পুড়ে গেছে পাঁচটি বসতঘর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে মধুরছড়া এলাকার ৪ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লকে অবস্থিত ‘ওবাট হেলথ পোস্ট’ নামে পরিচিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পুরো কাঠামো, ভেতরে থাকা চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, ওষুধ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। প্রাথমিক হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের চিকিৎসাসেবার জন্য দাতব্য সংস্থা ওবাট হেলপারস ইউএসএ এই কেন্দ্রটি স্থাপন করে। বর্তমানে এটি হিউম্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ-এর অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছিল। ওবাট হেলপারস বাংলাদেশের হেলথ কো-অর্ডিনেটর ডা. মাহামুদুল হাসান সিদ্দিকী রাশেদ জানান, আগুনের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে পড়েছে। ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক বলেন, “এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রই ছিল আমাদের ভরসা। এখন অসুস্থ হলে কোথায় যাব জানি না।”
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের একটি ব্লকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচটি বসতঘর পুড়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং হঠাৎ চিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা জানান, একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং সৌভাগ্যক্রমে কেউ আহত হয়নি। আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর কুতুপালং ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সহস্রাধিক ঘর পুড়ে যায় এবং একজনের মৃত্যু হয়। সেই ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আগুনের ঘটনায় শীতের মৌসুমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।